আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ইসরাইলের জেলে বন্দি ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারগুতির ওপর নৃশংস নির্যাতন

ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারগুতি। ছবি: মিডলইস্টআই

নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারগুতিকে হত্যার একটি ‘বিপজ্জনক পরিকল্পনা’ চলছে বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা, ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি। বারগুতিকে গুরুতর হামলার অভিযোগ এবং তার মুক্তির পক্ষে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক দাবির প্রেক্ষাপটে এমন সতর্কতার কথা জানাল সংস্থাটি।সূত্র:মিডলইস্টআই

২০০২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ফাতাহ নেতা বারগুতি পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বারগুতি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা হলেন বারগুতি

সংগঠনটির মহাপরিচালক আমজাদ আল-নাজ্জার বলেন, বারগুতির ওপর ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলা গোপন উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি জাতিসংঘকে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান এবং বারগুতির সঙ্গে দেখা করতে একটি তদন্ত কমিটি পাঠানোর দাবি করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, বারগুতির কক্ষে দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। বিশ্লেষকদের মতে, বারগুতির জনপ্রিয়তা তাকে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিণত করতে পারে—যা বর্তমান ইসরাইলে সরকার বিরোধিতা করছে।

বারগুতিকে কেন মুক্তি দিতে চায় না ইসরাইল

বারগুতির পরিবারও গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। তার ছেলে কাসাম বারগুতি জানান, ইসরাইলের কারগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক বন্দি বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী বারগুতির ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করেছে, তার দাঁত, পাঁজর, আঙুল ভেঙে দিয়েছে এবং কানের কিছু অংশ কেটে ফেলেছে। কাসাম জানান, তিনি সরকারি ও আইনি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বারগুতির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাননি।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে “বিপজ্জনক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা” বলে নিন্দা জানিয়েছে, এবং বারঘুতিসহ সব বন্দির নিরাপত্তার জন্য ইসরাইলকে সরাসরি দায়ী করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের কারাগারে ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি আটক রয়েছেন এবং তাদের অনেকেই নির্যাতন, অনাহার, অনাচিকিৎসা ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *