জাতীয়সর্বশেষ

শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদলের হামলা: সাংবাদিকদের মামলা নিতে গড়িমসি, ৬ ঘণ্টা আত্মগোপনে ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

২৫ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কোনো খোঁজ পাননি তারা। এতে মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসি করার অভিযোগ করেছেন তারা।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য।

তারা আগের রাতে থানার ভেতরেই পুলিশের সামনে শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও যুবায়েরসহ অনেক নেতা কর্মী এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানার ভেতরে সংঘটিত ওই  হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের ১২ জন চিহ্নিত নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে যান সাংবাদিকরা। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও থানার ওসির দেখা মেলেনি। এমনকি থানার অন্য কর্মকর্তারাও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

এদিকে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম। তিনি জানান, ওসি এসে মামলার কার্যক্রম শুরু করবেন। কিন্তু রাত বাড়লেও ওসির উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া আটকে থাকে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে থানায় অবস্থান করছি। কিন্তু এখনো মামলা গ্রহণের কোনো অগ্রগতি নেই। ডিসির বক্তব্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে, পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। আমরা হামলার শিকার হয়েছি, অথচ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “একদিকে আমাদের ওপর মব করে হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে মামলা গ্রহণে এমন গড়িমসি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞা এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অসম্মান। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, প্রশাসন যেন হামলাকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে।”

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পুলিশের এমন আচরণ শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপরও হামলায় ছাত্রদল। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পরদিনই মামলা করতে থানায় গেলেও তাৎক্ষণিক কোনো আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *