জাতীয়সর্বশেষ

দ্বৈত নাগরিকদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি নাগরিক কোয়ালিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

2৫ জানুয়ারি, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক কোয়ালিশন। সেই সঙ্গে নতুন করে সেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

শনিবার নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচন ও সেটির মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ব্যাপারে সারা দেশের জনগণ ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি আইনের যথাযথ, নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে- কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আইনের আওতায় প্রার্থিতা অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

নাগরিক কোয়ালিশন বলছে, গত ২২ জানুয়ারি ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবার সামনে প্রকাশ করে। এই তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া একাধিক প্রার্থীর হলফনামায় তাদের বিদেশে নাগরিকত্বের ব্যাপারে ও বিদেশে থাকা সম্পদের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে তথ্য গোপন করেছে। এটি নির্বাচনি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই অপরাধে তাদের প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তাদের প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করেছে এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গুটিকয়েক প্রার্থীর ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভুল (হয়ত অনিচ্ছাকৃত) সিদ্ধান্তের জন্য তা কলঙ্কিত করা ঠিক হবে না। এটি করা হলে জুলাই আন্দোলনে জীবন দেওয়া শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা করা হবে।

নাগরিক কোয়ালিশনের দাবি- যেসব প্রার্থীর দৈত্ব নাগরিকত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে নতুন করে অভিযোগ এসেছে, সেই সব প্রার্থীর আসনে নির্বাচন স্থগিত করে অভিযোগ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে দ্রুততম সময়ে সে সব আসনে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হোক। এ পদক্ষেপ নেওয়া নির্বাচন কমিশনের নৈতিক ও আইনি কর্তব্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *