আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

নিউইয়র্কের এক নতুন গল্প লিখব আমরা:মেয়র মামদানির অভিষেক ভাষণ

বক্তব্য রাখছেন জোহরান মামদানি। ছবি: সিএনএন

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

 ‘আজ এক নতুন যুগের শুরু’—ভাষণটি এভাবেই শুরু করেন জোহরান মামদানি। তারপর ধন্যবাদ জানালেন সবাইকে, নিউইয়র্কের মেয়র পদে তাঁকে বিজয়ী করার জন্য। এরপর ২৫ মিনিটে তুলে ধরলেন এই নগরী নিয়ে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা; বাসনা জানালেন সবাইকে নিয়ে পথচলার, প্রতিশ্রুতি দিলেন এই নগরীর নতুন গল্প লেখার। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়ে ঐতিহাসিক এই ভাষণ দেন জোহরান মামদানি। এই শপথের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অংশ হলেন এই ডেমোক্রেট। এই নগরের তিনিই প্রথম মুসলমান মেয়র; এই পদে দক্ষিণ এশিয়া বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবেও তিনিই প্রথম। বছরের প্রথম দিনে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেওয়ার পর নিউইয়র্ক সিটি হলে অভিষেক ভাষণ দিতে আসেন মামদানি। ৩৪ বছর বয়সী ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ মামদানিকে শপথ পড়ান ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যাদের রয়েছে আদর্শিক অবস্থানের মিল। সূত্র:সিএনএন

মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার পর থেকে আলোচিত মামদানি যে ভাষণটি দিয়েছেন, তা এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি এখানে তুলে ধরা হলো

আমার প্রিয় নিউইয়র্কবাসী, আজ নতুন এক যুগের সূচনা হলো। এই পবিত্র শপথ নেওয়ার সৌভাগ্য হওয়ায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত; বিনম্র শ্রদ্ধা আপনাদের প্রতি, আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য। নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম বা ১১২তম মেয়র হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। তবে এখানে আমি একা নই। আমি আপনাদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে, লোয়ার ম্যানহাটানে আজ এখানে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের সঙ্গে, যাদের আশার বাতিতে চাপা পড়ছে জানুয়ারির শীত।

আমি দাঁড়িয়ে আছি আরও অসংখ্য নিউইয়র্কবাসীর পাশে, যারা দেখছেন ইস্ট নিউইয়র্কের সংকীর্ণ রান্নাঘর থেকে শুরু করে সেলুনে বসে টিভিতে চোখ রেখে; লাগুয়ার্ডিয়ার পার্ক করা ট্যাক্সির ড্যাশবোর্ডে ঠেস দিয়ে রাখা মুঠোফোন থেকে, মট হ্যাভেনের হাসপাতাল থেকে, আর এল বারিওর সেই লাইব্রেরিগুলো থেকে, যেগুলো বহুদিন ধরে পড়ে আছে অবহেলাকে নিয়তি মেনে নিয়ে।

আমি দাঁড়িয়ে আছি লোহার বুট পরা সেই সব নির্মাণশ্রমিকের পাশে, সারা দিন কাজ করে হাঁটুর ব্যথায় অবশ সেই সব গাড়ির দোকানিদের পাশে, যারা হালাল পণ্য বিক্রি করেন।

আমি দাঁড়িয়ে আছি সেই সব প্রতিবেশীর পাশে, যারা এই হলের শেষ প্রান্তের বৃদ্ধ দম্পতির জন্য খাবারের থালা নিয়ে যান; যারা তাড়াহুড়ার মধ্যেও সাবওয়ের সিঁড়িতে অপরিচিতের স্ট্রলার তুলে দেন; এবং সেই মানুষগুলোর পাশে, যারা প্রতিদিন কষ্টের মধ্যে এই শহরটিকে নিজের ঘর বলেই ভাবেন।আমি দাঁড়িয়ে আছি ১০ লাখের বেশি নিউইয়র্কবাসীর পাশে, যারা প্রায় দুই মাস আগে এই দিনটির জন্য ভোট দিয়েছিলেন, দাঁড়িয়ে আছি তাদের পাশেও, যারা তা দেননি। আমি জানি, কেউ কেউ এই প্রশাসনকে অবিশ্বাস বা অবজ্ঞার চোখে দেখেন কিংবা মনে করেন যে রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা অবয়ব নিয়েছে। এটা মানি যে কেবল কাজ দেখানোর মাধ্যমেই এই মনোভাব বদলানো যাবে, তবু আমি আপনাদের এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আপনি যদি নিউইয়র্কের বাসিন্দা হন, তবে আমি আপনারই মেয়র। আপনার সঙ্গে আমার মতের মিল হোক বা না হোক, আমি আপনাকে রক্ষা করব। আপনার উদ্‌যাপনে যেমন সঙ্গী হব, সঙ্গী হব শোকেও। কখনো, এক সেকেন্ডের জন্যও আপনাদের চোখের আড়াল হব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *