জাতীয়সর্বশেষ

কড়াইল বস্তিতে কেন বারবার আগুনের হানা

ছবি:সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ নভেম্বর, ২০২৫

ভূমিকম্পের ট্রমার মধ্যে ঢাকার সবচেয়ে বড় ঘনবসতিপূর্ণ কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটল। মহাখালী-গুলশানের আকাশচুম্বী অট্টালিকা আর কড়াইলের টিনের চালের জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরের মাঝখানে ব্যবধান শুধু একটি লেকের। তবে সামান্য দূরত্বের আড়ালে লুকিয়ে আছে জীবন-মানের আসমান-জমিন ফারক। আর ক্ষমতার অশুভ আঁতাত ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন বেচা মানুষগুলোর বারবার জ্বলে-পুড়ে নিঃস্ব হওয়ার আখ্যান।

কড়াই বস্তির আগুন যেন এক অনাহূত পুরোনো অতিথি, অপ্রত্যাশিত স্বত্ত্বেও ঘুরে ফিরে আসে, রেখে যায় ছাই, কান্না আর ক্ষত। সংগতকারণে কড়াইল বস্তির নিম্ন-আয়ের মানুষের হৃদয়ে আটকে থাকা আতঙ্কের নাম আগুন।

সচেতন নাগরিক মহল বলছেন, যে শহরে একদিকে কাঁচের আড়ম্বর, আরেকদিকে মানুষ টিন-কার্ডবোর্ডে ঘনবসতিতে জীবন সাজায়, সেই শহরের আগুন শুধু ঘর পোড়ায় না! পোড়ায় সমতার স্বপ্ন, নিরাপত্তার অধিকার, আর বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকুও।

কিন্তু কেন এই কড়াইল বস্তিতে বারবার আগুন লাগে? কারণ কী? কে বা কারা দায়ী? আগুনের খবর পেয়েও কেন ফায়ার সার্ভিস বার বার আটকে যায় পথে? আগুনের নেপথ্যে কারও কোনো গোপন উদ্দেশ্যও কি অমূলক? সরকারেরই বা কী উদ্যোগ? সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না কখনোই। মোটাদাগে কারণগুলো উঠে আসে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের তদন্তে। কিন্তু তাতে আগুন লাগা বন্ধ হয়নি, নিঃস্ব হওয়া বাসিন্দারা কোমর সোজা করে দাঁড়াতেই আবারো নিঃস্ব হওয়ার করুণ পরিণতিও শেষ হচ্ছে না।

মহাখালী-বনানী-গুলশানের মতো বাণিজ্যিক-অভিজাত এলাকার মাঝখানেই প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে ঘনবসতিপূর্ণ এক বস্তি কড়াইল। প্রায় লাখ খানেক মানুষের বসবাস এই বস্তিতে। এখানকার বাসিন্দাদের জীবিকা দিনমজুরি, ড্রাইভিং, ভাঙ্গারি ব্যবসা, গার্মেন্টস, রিকশা, ছোট ব্যবসা, ডে-লেবার, হকারি। কর্মজীবী নারী বাসিন্দাদের অধিকাংশরাই ছোট দোকানি, গার্মেন্টস ও বাসা-বাড়িতে কাজ করেন।

যেখানে আধুনিক নগর পরিকল্পনায় একজন মানুষের ন্যূনতম থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত প্রধান অগ্রাধিকার, সেখানে কড়াইল বস্তিতে গড়ে প্রতি ৪০-৫০ বর্গফুটে একজন মানুষ বসবাস শুধু মানবিক সংকটই নয়, অগ্নিকাণ্ডের জন্যও যেন প্রস্তুত বারুদ-ভাণ্ডারের ন্যায়।

তারই যেন প্রমাণ দিতে হয় প্রতিবছর আগুনে। কখনো কখনো বছরের ২/৩ বারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে কড়াইল বস্তিতে।

সবশেষ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে খবর পেয়ে মোট ১৯টি ইউনিট কাজ করে। রাত সাড়ে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *