জাতীয়সর্বশেষ

হাদি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ

হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে ছাত্র-জনতা। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। হাদির হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে নামেন সবাই। শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলায় বিক্ষোভ করেছে ছাত্রজনতা।

হাদি হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের পর আজ (শুক্রবার) সকালেও শাহবাগে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মিছিল শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহবাগ। সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্র-জনতা শাহবাগে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী মিছিল করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতেই রাজধানীর শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এসময় পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধারা। ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানান তারা।

ছাত্রজনতার সঙ্গে এক কাতারে মাঠে নেমেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলমসহ অন্যান্যরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তারা।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ সড়কে নেমেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও ডাকসু নেতারাও। হত্যা করে আধিপত্যবিরোধী লড়াই বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি ও শনিরআখড়া ছাত্র-জনতা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে। এতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক,ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-ডেমরা সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শতশত রোগী ও যাত্রীরা।

রাতে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুরেও চলে বিক্ষোভ। বন্ধ হয়ে যায় সড়ক। এক পর্যায়ে আগুন দেওয়া হয় প্রথম আলো পত্রিকার কার্যালয়ে। এর কিছু সময় পর আগুন দেয়া হয় ইংরেজি পক্রিাক দ্য ডেইলি স্টারে কার্যালয়ে।

আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে আটকা পড়েন বেশ কয়েকজন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এমন পরিস্থিতি চলার পর এক পর্যায়ে দমকলবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করা হয় সেখানে আটকে পরা গণমাধ্যমকর্মীদের। ধানমণ্ডি ৩২, ছায়ানটেও চলে অগ্নিসংযোগ।

ওসমান হাদির মৃত্যু খবরে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধরা; আগুন দেয় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের বাড়িতেও। গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগ অফিস। বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় সিলেট ও বরিশালেও। নেত্রকোনায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিচার দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে জামালপুরে। ওসমান হাদির নিজ জেলা ঝালকাঠিতেও বিক্ষোভে নামেন অনেকে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। যশোর বিক্ষোভ মিছিল করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ শুরু করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। পরে সোহরাওয়ার্দী ও আলাওল হল প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট মোড়ে এসে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে ‘ভারতের আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘আমরা সবাই হাদী হব, গুলির মুখে কথা কব’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা যুগে যুগে দেখেছি ফ্যাসিবাদীরা, জঙ্গিবাদীরা বিপ্লবীদের গুপ্তভাবে হত্যা করে। যুগে যুগে যারা ফ্যাসিবাদ, জুলমবাজ এবং কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখন সন্ত্রাসীরা তাদেরকে হত্যা করার জন্য নীল নকশা করেছে।

বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরাও।বৃহস্পতিবার রাত সোয়া এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়তলা মোড়ে জড়ো হন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল সংলগ্ন রাস্তা ঘুরে শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন তারা। এসময় জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা শপথ বাক্য পাঠ করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই শহীদ কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’; ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘আমরা সবাই হাদি হবো, গুলির মুখে কথা কবো’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’; ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’— ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি শহরের খাসমহল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর খবর শুনে তার আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন বাসায়। আগামীকাল সকালে সবার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা।

শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে নীলফামারীর জলঢাকায় মিছিল বের করে বিপ্লবী ছাত্র জনতা। মিছিলটি জলঢাকা থানা মোড় থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, স্থানীয় আবু সাঈদ চত্বরে সমাবেশ এর মাধ্যমে শেষ হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে রংপুরে বিক্ষোভ সড়ক অনুরোধ করেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ ছাত্র-জনতারা। এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীর। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মডান মোড়, আবু সাঈদ চত্ত্বর, লালবাগ খামার মোড় ও শাপলা চত্বরে এসে অবস্থান নেন।

এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে? হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে থাকেন তারা। এ সময় বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক জাহিদ হাসান জয়, সদস্য সচিব মো. মেহেদী হাসান, বেরোবি শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন, আরিফ হাসান, রহমত আলী প্রমুখ।

জেলা প্রতিনিধি, ‎লক্ষ্মীপুর জানান, ‎ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী শহীদ আফনান চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে ছাত্র-জনতা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণ তেমুহনী গিয়ে শেষ হয়।

‎এর আগে শহরের শহীদ আফনান চত্ত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রূত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবী জানান।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরের কাউনিয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। উপজেলার বেইলিব্রীজ বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, হাদির মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এটি একটি নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অথচ ঘটনার এতদিন পরও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে ওঠে বরিশাল নগরী। হাদির মৃত্যুর খবর বরিশালে পৌছার পরপরই বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা নগরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। রাত ১১ টায় বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরের নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হয়। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে নানান স্লোগান দিতে থাকে।

দিনাজপুরের খানসামা আবারও উত্তাল হতে যাচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র বীর যোদ্ধা শহিদ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী প্রতিবাদের আবহ তৈরি হলে তারই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের খানসামায় একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

হাদির মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট নগরী। রাত সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিজয় চত্বরে (চৌহাট্টা পয়েন্ট) জড়ো হন ছাত্র-জনতা। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, গুলির মুখে কথা কব, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ’—এমন নানা স্লোগানে পুরো চৌহাট্টা এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। মিছিলগুলো নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দাবাজার ও কোর্ট পয়েন্ট হয়ে পুনরায় বিজয় চত্বরে এসে সমবেত হয়।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর মৃত্যুতে সড়ক অবরোধ করেছে ২৪ আগষ্টের সমন্বয়সহ ছাত্র জনতা। এতে চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়।

৩৬ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক শরীফ ওসমান হাদি নিহতের খবর প্রকাশের সাথে সাথেই প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে পরে সারা দেশ। খবর প্রকাশের পরপরই রংপুরের পীরগাছা-কাউনিয়া উপজেলার রাজপথে ছাত্রজনতার ঢল নামে। মিছিলে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

রাত সারে ১১টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার বেইলি ব্রীজ বাজারে ‘তুমি কে আমি হাদী-হাদী’ আমরা সবাই হাদী হবো গুলির মুখে কথা কবো। আয় হাসিনা দেখে যা রাজপথে তোর বাবারা। একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর। শ্লোগানে উত্তাল হয়ে পরে পীরগাছা- কাউনিয়ার মাটি।

সন্ত্রাসী হামলায় আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবরে পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ। মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে স্থানীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই আন্দোলনের আপসহীন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই খাগড়াছড়িতে শোক আর ক্ষোভে ফেটে পড়ে জেলার সর্বস্তরের ছাত্র জনতা। রাতে খাগড়াছড়ি শহরে নেমে আসে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে ওঠে পুরো শহর।

১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হবে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *