আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

সিরিয়ায় আলাওয়ি বিক্ষোভে গুলিবর্ষণ, পুলিশসহ নিহত ৩

ছবি: এএফপি

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২9 ডিসেম্বর, ২০২৫

সিরিয়ায় পশ্চিমাঞ্চলে আলাওয়ি সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ চলাকালে রোববার গুলিবর্ষণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। হোমস শহরের একটি মসজিদে প্রাণঘাতী বোমা হামলার পর সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়ের অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সূত্র:এএফপি

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার হোমসের একটি মসজিদে বোমা হামলায় আটজন নিহত হওয়ার পর উপকূলীয় প্রদেশ ও মধ্য সিরিয়াজুড়ে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। হামলার পর দেশটিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, লাতাকিয়া প্রদেশে একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুইজন নিহত হন। তবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা লাতাকিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে জানায়, ‘সাবেক শাসন ব্যবস্থার অবশিষ্টদের হামলায়’ তিনজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, নিহত তিনজনের একজন ছিলেন পুলিশের জেনারেল সিকিউরিটি বাহিনীর সদস্য।

লাতাকিয়া ও উপকূলীয় শহর জাবলেহতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নতুন ইসলামপন্থী সরকারের সমর্থকদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং আকাশে গুলি ছোড়ে। লাতাকিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল আজিজ আল-আহমাদ জানান, অজ্ঞাত উৎস থেকে সরাসরি গুলিবর্ষণের ফলে বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা সদস্যরা আহত হয়েছেন।

হোমস শহরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অবজারভেটরি।

পলাতক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সম্প্রদায় শিয়াপন্থী আলাওয়িদের ধর্মীয় নেতা গাজাল গাজালের ডাকে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, হোমস হামলার পর বিশ্বকে জানাতে হবে যে আলাওয়ি সম্প্রদায়কে অবহেলা করা যাবে না। এদিকে, মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি উগ্রবাদী গোষ্ঠী সারায়া আনসার আল-সুন্না।

এক ভিডিও বার্তায় ইসলামিক আলাওয়ি কাউন্সিলের প্রধান গাজাল গাজাল বলেন, তারা গৃহযুদ্ধ বা সন্ত্রাস চান না, বরং রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার চান। লাতাকিয়ায় বিক্ষোভকারীরা তার ছবি বহন করে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বন্ধের দাবি জানান।

আলাওয়ি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সমর্থকদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

উল্লেখ্য, সিরিয়ার অধিকাংশ মানুষ সুন্নি মুসলমান হলেও হোমসসহ বিভিন্ন এলাকায় আলাওয়ি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে আলাওয়ি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ বেড়েছে। নতুন শাসনের অধীনে সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। সিরিয়া সংখ্যাগুরু সুন্নী সম্প্রদায়ের ওপর আটদশকের বেশি সময় ধরে জুলূমের শাসন চালিয়েছে এই সমপ্রদায়ের শাসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *