জাতীয়সর্বশেষ

শেরপুরে জামায়াত নেতা কুপিয়ে হত্যা বিএনপির, ঢাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

শেরপুরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা রেজাউল ইসলাম কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাকসু নেতাদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে হলপাড়া প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসিতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘মানুষ খুনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বিচার চাই, মানুষ হত্যার বিচার চাই’, ‘মানুষ খুনের মাস্টার প্ল্যান’, ‘শেরপুরে মানুষ খুন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময়কার বিএনপি আর নেই; বর্তমান বিএনপি চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, বিএনপি সেটি ভেঙে দিয়েছে।

সাদিক কায়েম বলেন, গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল বিএনপি। নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?

তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশে ফিরে দলকে শৃঙ্খলায় আনার আশা থাকলেও বাস্তবে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বিএনপিকে সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনও সময় আছে—জুলাই বিপ্লব ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শেরপুরের ঘটনা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত নেতা রেজাউল ইসলাম নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের এবং এর নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জুলাই প্রজন্ম আরও শক্তভাবে রাজপথে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হলেও বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও খুনের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, বক্তব্য বা পরিকল্পনার কথা বলে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না—মানুষ এখন কাজের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে বিচার করে।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায়। শেরপুরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার না হলে প্রশাসনের পরিণতিও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যার বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *