আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

যুদ্ধে বাড়ছে বিশ্বব্যাপী অনাহার, খাদ্যকে বানানো হচ্ছে মারাণাস্ত্র : জাতিসংঘ

এনভিবিডি24ডটকম

নিউজ ডেস্ক

১৮ নভেম্বর, ২০২৫

জাতিসংঘের উপপ্রধান আমিনা মোহাম্মাদ বলেছেন, ‘আমরা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এমন এক বিশ্বে বসবাস করছি যেখানে কোন এক অঞ্চলের সংঘাতের শোকের ঢেউ সব মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।’ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তিনি সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ-সংঘাত খাদ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষ ভয়াবহ অনাহার ও দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমিনা মোহাম্মাদ জোর দিয়ে বলেছেন, খাদ্যকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ আর অনাহার সবসময়ই একই সংকটের দুই ‍মুখ’।যুদ্ধ-সংঘাত সম্পর্কিত খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘের উপপ্রধান আমিনা মোহাম্মাদ এই মন্তব্য করেন। তিনি  বলেন, ‘নির্মম সত্য হলো  যুদ্ধ অঞ্চলে আটকা পড়া লাখ লাখ মানুষ এই সুস্পষ্ট নৃশংস বর্বরতার শিকার হচ্ছেন।

কিভাবে যুদ্ধ খাদ্যপ্রাপ্তির ভিত্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে উল্লেখ করে আমিনা বলেন, বুলেট ও বোমা জমিনকে বিরান ও বাজারগুলো এবং রাস্তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যেখানে লোকেরা ফসল আবাদ ও বেচাকেনা করে। আর রাস্তার মাধ্যমে কৃষক ও পরিবারগুলো বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

তিনি বলেন, ‘আর অনাহার যুদ্ধে অনুরূপ শক্তিতে আঘাত হানে মানুষের ওপর।খালি পেট লোকদের হতাশ ও বেপরোয়া করে তুলে। এই অবস্তায় লোকজনকে স্থানচ্যুত ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়। এর ফল হচ্ছে অস্থিতিশীলতা এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রাপ্তির সব ব্যবস্থার ধ্বংসসাধন।’

আমিনা জোরদিয়ে বলেন, ‘অনাহার ও দুর্ভিক্ষ অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে নিরাপত্তা পরিষদ কখনোই বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ অর্জন করতে পারবে না।লোকেরা যেখানে অনাহারে থাকে সেখানে না থাকে শান্তি, না স্থিতিশীলতা।’

তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বে সংঘাত কবলিত স্থানগুলোর ১৬টির মধ্যে ১৪টিতেই মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা যাচ্ছে।’

আমিনা বলেন, ‘গত বছর মারাত্মক অনাহারের শিকার মানুষের সংখ্যা ছিল সাড়ে ২৯ কোটি, বিগত বছরের চেয়ে এক কোটি ৪০ লাখ বেশি। এছাড়া মারাত্মক অনাহারের শিকার মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে এক কোটি ৯০ লাখে দাঁড়িয়েছে।’

যেসব অঞ্চলে মারাত্মক সংকট চলছে সেগুলোর উল্লেখ করে জাতিসংঘের উপপ্রধান বলেন, ‘সুদান হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনাহারগ্রস্থ দেশ।দেশটির দারফুর ও কোর্দোফান অঞ্চলে স্থায়ীভাবে দুর্ভিক্ষ চলছে।’

তিনি বলেন, গত আগষ্ট মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষ চলার কথা নিশ্চিত করা হয়। সেখানিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ।হাইতি, ইয়েমেন, সাহেল অঞ্চল ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রজুড়ে কোটি কোটি মানুষ অনাহার আর সংঘাতের দুষ্টচক্রে আটকা পড়ে আছেন।

আমিনা বলেন, সংঘাতের নতুন অংক হলো, যখন খাদ্য ব্যবস্থায় হামলা হয় এবং তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় তার প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সুপরিকল্পিতভাবে অনাহারে রাখার কৌশল অবলম্বন করার বিষয়টি আমরা বার বার প্রত্যক্ষ করেছি। অতি সম্প্রতি গাজায় তা করা হয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অবরোধ আরোপ করে খাদ্য সরবরাহ আসতে বাধা প্রদান এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা-বানিজ্য ধ্বংস করে দেওয়া।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *