ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আল আমিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ‘শীতকালীন কনটেন্ট’ তৈরি করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর (ভিডিও নির্মাতা)। মো. আল আমিন নামের এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বর্তমানে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গৌরীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইটখোলার মোড়সংলগ্ন এলাকায় গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আল আমিন উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসাত্মক, বাস্তব ও অবাস্তব বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে যুক্ত হয়ে পড়েন। পেয়ে যান জনপ্রিয়তাও।
আল আমিন পাঁচ বছর ধরে কনটেন্ট তৈরির কাজ করছেন। তার কাজে সহযোগিতা করেন এলাকার আরও ৩০-৩৫ যুবক। তাদের একজন আজাদ হোসেন বর্তমানে আল আমিনের সঙ্গে রয়েছেন। রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি বলেন, শীতকালীন ভিডিও বানাতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটে। সেদিন সকাল সাতটার দিকে পুকুরের পানিতে পেট্রল ঢেলে আগুন পোহাতে পোহাতে গোসল করার ভিডিও শুরু করা হয়। আগুন দিতেই হঠাৎ বাতাসে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে আল আমিনের শরীরের পেছনের অংশ, যেমন পিঠ, পা দগ্ধ হয়। ওই অবস্থায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
আজাদ হোসেন আরও বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আল আমিনের শরীরের ২৮-৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তবে এখন অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভাল। তিনি আরও বলেন, ‘যা ঘটেছে, এমন হবে তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। বাতাসের কারণে এমনটি হয়েছে। অন্যান্য ভিডিওর ক্ষেত্রে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সামনে কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা হবে। এ ঘটনা থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে।’
এদিকে আল আমিনের আগুন পোহানো ও তাতে দগ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা গেছে, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে এবং সেই আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পানিতে ঝাঁপ দেন আল আমিন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ময়মনসিংহ বিভাগীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। সংগঠনটির সদস্যসচিব কাঙাল শাহীন বলেন, ‘বেশি ভাইরালের নেশায় ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করছে অনেকে। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও ভাইরালের আসক্তি থাকার কারণে বিচারবোধ কমে যায়, যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আল আমিনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনের জন্য ঝুঁকি হয়, এমন ভিডিও থেকে আমাদের সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’

