বিএনপি, বঙ্গভবন মিলে জামায়াতের ওপর সাইবার অ্যাটাক চালাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি, বঙ্গভবনের প্যাকেজ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সাইবার অ্যাটাক চলছে। তিনি বলেন, মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে- দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে দেশ নাকি পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে। আবার ভোট দিতে গেলে পা ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি এখন বলছে তারা ফ্যামিলি কার্ড দেবে, এটা ভুয়া, ভুয়া। ভুয়া বলারও তো একটা সীমা আছে। এর আগেও ক্ষমতায় আসার আগে তারা বেকার ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই বেকার ভাতার ফলাফল কোথায়- জনগণ আজও তা দেখেনি। এসব আশ্বাস আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বক্তব্যে বলেছেন, জামায়াতও এক সময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তখন কেন জামায়াত পদত্যাগ করেনি- এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এর জবাবে জামায়াতের আমির বলেছেন, দুর্নীতির সাগরের মধ্যেও জামায়াত কীভাবে সৎ থাকতে পারে, সেটিই প্রমাণ করার জন্য তখন কেউ পদত্যাগ করেননি। সে সময় সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছিল, দাড়িওয়ালা-টুপিওয়ালারা দেশ পরিচালনার যোগ্য নন। জামায়াত সেটা ভুল প্রমাণ করেছে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের এখন লালকার্ড দেখাতে হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি- এই তিন দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতি, দলীয়করণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল। নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। এসব শোষক দল দিয়ে আর দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ভুয়া ও অবাস্তব আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই আশ্বাস শেখ হাসিনার ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির মতোই। দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি হলেও বিএনপি ৫০ কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছিল জামায়াত। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিসি ক্যামেরার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরাও থাকবে। সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। মাস্তানরা কিছু করতে গেলে ধরা পড়ে যাবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্নার সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর শাখার নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এ সময় নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

