আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

পানি শোধনাগারে হামলার হুমকি, শঙ্কায় ট্রাম্পের উপসাগরীয় মিত্ররা

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

01 এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরো বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে দেশটির পানি পরিশোধন প্লান্টগুলোতে হামলার সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। কেননা এমন স্থাপনাগুলোতে হামলা সরাসরি যুদ্ধাপরাধের শামিল। আর যুদ্ধাপরাধের সাহায্যকারীরাও অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে থাকে।

  • ইরানের তেল শোধনাগার ও পানি শোধনাগারে হামলার পর ইরান উপসারীয় অঞ্চলের এমন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্প এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন।

আঞ্চলিক চারটির সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এসব দেশ ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে। তারা আশঙ্কা করছে, এমন হামলা হলে পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধমূলক আক্রমণ হলে তা ভয়াবহ রূপ নিবে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের পরিচালক অ্যান্ড্রু ফ্রিডম্যান সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যদি এমন কিছু করার হুমকি দেন যা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে, তাহলে তা মিত্র দেশগুলোকে আতঙ্কিত করে। কারণ তারা এমন কোনো কিছুর অংশ হতে চায় না, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পানি পরিশোধন কেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, কিন্তু তারপরেও মার্কিন-ইসরাইল ইরানের স্কুলসহ এমন সব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর পরবর্তীতে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। যেখানে উপসাগরীয় দেশের অনেকেই মিঠা পানির উৎস স্বল্পতার কারণে সাগরের লবণাক্ত পানি পরিশোধনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

তাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পানি শোধনাগারে হামলা চালালে ইরান পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের অনুরূপ স্থাপনায় হামলা করে, তবে এর ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় কোনো দেশের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে আঘাত হানে, তাহলে তা ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ এসব দেশের বেশিরভাগই পানীয় জলের জন্য এমন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল।

এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের হামলা হলে তা বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমাদের প্রায় সব পানীয় জলই আসে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে।’

সূত্রগুলো আরো জানায়, বেশ কয়েকটি দেশ ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেও এখন পর্যন্ত তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেনি। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরো জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *