দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী, জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান ও এনসিপির নাহিদ ইসলামের ঈদের শুভেচ্ছা
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
২০ মার্চ, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলিমদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধিদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামির আমির ডা: শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (২০ মার্চ) পৃথক পৃথক বাণী ও বার্তায় তারা এই শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।
তারেক রহমান বলেন, রমজান মাসের শিক্ষা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত হলেই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য অর্জিত হয়। ঈদ ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সংহতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী ও দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী ভাই-বোনেরা আসসালামু আলাইকুম। রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহান বার্তা নিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রমজান এসেছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার অনুগত বান্দা-বান্দিদের রোজা রাখার তৌফিক দেওয়ায় মহান মা‘বুদের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ।
তিনি বলেন, আসমানে চাঁদ দেখা গিয়েছে, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (শনিবার) পবিত্র ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রিয় ভাই-বোনদেরকে আন্তরিক খোশ আমদেদ জ্ঞাপন করছি। শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, দোয়া করছি। এক মাসের সিয়াম সাধনায় আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনের সমস্ত গুনাহখাতা সরিয়ে দিন। আমাদেরকে তার প্রিয় বান্দা-বান্দিদের মধ্যে শামিল করে নিন। আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে আমাদের থেকে জাহান্নামকে দুরে সরিয়ে দিন। আমরা মহান আল্লাহকে ভালবাসি, যারা জীবিত বা মৃত-আল্লাহ সবার প্রতি অনুগ্রহ দান করুন, তাদেরকে ক্ষমা করুন, তাদের প্রতি রহমশীল হন এবং তাদের জন্যও জাহান্নামকে হারাম করে দিন।
জামায়াত আমির বলেন, প্রিয় দেশবাসী ভাই-বোনেরা, রমজান মানুষকে শুধু উপবাস বা পিপাসার কষ্ট দিতে আসেনি। রমজান এসেছিল কল্যাণের বার্তা নিয়ে, নিয়ামত হিসেবে। আমরা কতটুকু সেই নিয়ামত হাসিল করতে পেরেছি, আল্লাহই ভাল জানেন। তবে মহান রবের দরবারে দোয়া ও বুকভরা আকুতি থাকবে, আল্লাহ তায়ালা এই রমজানের ইশারায় যাদেরকে তার প্রিয় বান্দা-বান্দি হিসেবে কবুল করেছেন, আমাদেরকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।
তিনি বলেন, রমজান এসেছিল মানুষকে সংযম শেখাতে, রমজান এসেছিল মানুষের মাঝে আল্লাহর ভীতি পয়দা করতে। সেই তাকওয়ার নিয়ামত যেন আল্লাহ বেশি বেশি করে দান করেন। যাদের অন্তরে ভয় আছে, তারা আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির পক্ষ থেকে বড় নেয়ামত। আল্লাহর ভয় যাদের অন্তরে নেই, তারা বেপরোয়া, নাফরমান হয়, তারা দুনিয়ায় বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং তাদের দ্বারা মানুষ কষ্ট পায়। আমরা সেই সমস্ত চরিত্রের লোকদের থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি-আল্লাহ যেন আমাদের পরস্পরের মধ্যে শ্রদ্ধা, ভালবাসার পরিবেশ তৈরি করে দেন। আমাদের মাঝ থেকে যেন আল্লাহ হিংসা, প্রতিহিংসা দুর করে দেন। আল্লাহ যেন আমাদের মাঝে দায়িত্ববোধ তৈরি করে দেন। রাষ্ট্রে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে সেবা দিচ্ছেন, সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি পর্যায়ে যারা আছেন, তাদেরকে আল্লাহর ভয় করে চলার নীতি অনুসরণের তৌফিক দান করেন।
নাহিদ ইসলাম
এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, আত্মশুদ্ধি ও সংযমের আদর্শে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উৎসব ধনী-গরিব, ছোট-বড়, উঁচু-নিচু—সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলিয়ে আমাদের সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদের অন্ধকার দূর করে ঈদ আমাদের হৃদয়ে আনে নির্মল প্রশান্তি।
তিনি বলেন, এ দেশের মুসলিমদের জন্য এটি ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অসংখ্য নেতাকর্মী। আমরা যেন কখনো ভুলে না যাই—শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, যাদের সর্বস্ব ত্যাগে আমরা ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, আসুন, সেই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াই। আমাদের আহত সংগ্রামী ভাই-বোনদের খোঁজখবর নেওয়া এবং পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এই আনন্দের দিনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রতি; ঈদের আনন্দ ও পরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত থেকে যারা দূর প্রবাসে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে ঈদের দিনে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনসহ সমাজের দরিদ্র, অসহায়, অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।
বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এই পবিত্র ও আনন্দঘন মুহূর্তে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন বাংলাদেশসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ করেন।

