আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ট্রাম্প আবার যুদ্ধের পথে ফিরছেন, তবে সহজ হবে না জয়

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১৪ এপ্রিল, ২০২৬

গাজায় গণহত্যার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যে অবস্থা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: স্কাই নিউজ

পুরো যুদ্ধ যেভাবে ট্রাম্পেএকাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে যাবার পর ঠিক সেইভাবেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন।

তিনি বলেছেন, নৌ অবরোধ আরোপ ইরানকে আগের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের কথা ঘোষণা দিয়ে তিনি কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের তেল রফতানিও বন্ধ করে দেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। এতে এশিয়া ও ইউরোপের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল বোঝাই জাহাজ অতিক্রম করেছে। সৌদি ও আমিরাত থেকে তেল নিয়ে আসা তিনটি সুপারট্যাংকারের দুইটি ২১ এপ্রিল মালয়েশিয়ার মালাক্কা বন্দরে ভিড়বে বলে জানা গেছে।

ইরাক থেকে তেলবোঝাই অপর সুপারট্যাংকারটি গত সপ্তাহে হবমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

ইরানকে কর দিয়ে যেসব জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে সেগুলোকে বিক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক পনিসীমায় আটকানোর জন্য ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ট্রাম্পে কিছু নির্দেশ পালনের চেষ্টা করছে। তবে তারা বলেছে, সেন্টকম হরমুজ প্রণালী ও অ-ইরানি বন্দর থেকে আসা জাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের স্বাধীনতাকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

ইতোমধ্যে অনেকে ইরানকে কর দিয়ে তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার করেছে । তেলের বাজারের বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই মুর্খতা দেখে লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছেন।

ইরানের ওপর হামলার শুরুর পর ইরান শতাধিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দিয়েছে। তেলের বাজার ঠিক রাখতে ট্রাম্প তখন ইরানের তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ডিফেন্স প্রিয়রিটিজিএর সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাফ ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে তেলের বাজারের দাম আগের চেয়েও অনেক বেশি বাড়বে যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের সৃষ্টি করবে।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ভ্যালি নসর বলেছেন, দীর্ঘদিনের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির দমবন্ধ করার জন্য এটি হবে ইরানের হাতে একটি অস্ত্র তুলে দেওয়া। এই সুযোগে ইরান বাব আল-মানদেব বন্ধ করে দেবে। তখন ট্রাম্পকে এ নতুন সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে।

ইরানের শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আহামাদিয়ান বলেছেন, ইরান সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই অবরোধ ভাঙ্গতে পারবে না। ফলে অল্প সময়ে ইরানকে দুর্বল করতে এবং বিশ্বের তেলের দামের নিয়ন্ত্রন গ্রহণ করতে পারবে। তবে এমন সহজ হিসেবে কোনক্রমেই অর্জন সহজ হবে না।

হামাদিয়ান বলেন, ৩৯ দিনের যুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহি রণতরীগুলো ইরান থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, যুদ্ধ ছাড়াই ইরানের তেল সরবরাহ বন্ধ করা যাবে যাতে তেলের বাজারে দাম ব্যাপক বাড়বে।

ট্রাম্পের অবরোধ আরোপের ঘোষণার পর তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে দাঁড়ায়।

ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক সংঘাত ঠেকাতে তারা পর্যাপ্ত চাপ দিচ্ছে।

যাই বলা হোক না কেন,বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়ে বর্তমান আরও শক্ত অবস্থানে আছে। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো যাবে না। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের রকেট লাঞ্চারের অর্ধেকই অক্ষত রয়েছে। হাতে মজুদ আছে হাজার ক্ষেপণাস্ত্র। যা ভূগর্ভস্থ লাঞ্চার থেকে সহজে নিক্ষেপ করা যায়।

ইরানের ১৩ হাজার লক্ষবস্তুতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরাইলের জঙ্গী বিমানগুলো। ইরান যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *