আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

এ সপ্তাহে পাকিস্তানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের আলোচনা বসতে পারে

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১৪ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন অবরোধ আরোপ সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আবার পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারে বলে জানা গেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র মঙ্গলবার রয়টার্সকে একথা জানিয়েছে।

ইরানিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছুতে চায় বলে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর তেলের দাম কমে ১০০ ডলারের নীচে নেমে আসে।

মার্কিন ভাই প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ভবিষ্যত আলোচনার বিষয়টি ইরানের ওপর নির্ভর করছে।

গত সপ্তান্তে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা সাফল্য ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন।

বন্দরগুলোর ওপর ট্রাম্পের অবরোধ আরোপের ঘোষণা ইরান ক্ষোভ প্রকাশ করে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ তেলের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সোমবার যোগাযোগ করেছে এবং তারা একটি চুক্তি করতে চায়।  ইরান পরমাণু অস্ত্র লাভ করতে পারে এমন কোন ‍চুক্তি তিনি মেনে নেবেন না।

আল-আরাবিয়া জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও প্রধান কিছু ইস্যুতে দুই দেশ এখনো একমত হতে পারেনি। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দীর্ঘ ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।  শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল এই প্রস্তাব উত্থাপন করে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ২০ বছরের স্থগিতাদেশের প্রস্তাবের বিনিময়ে ইরানকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান এই দীর্ঘ মেয়াদের প্রস্তাবের পরিবর্তে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম মাত্র পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশটিকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা। যদিও ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই ফিরে এসেছেন। আলোচনার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। 

ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তার ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইরানের ওপর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান শুধু মুখে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর কথা বললেই হবে না, বরং তা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরান থেকে ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ করা ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি মূল শর্ত। এই সংকটের মধ্যে রাশিয়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে যাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হয়। 

তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাবটি এখনো টেবিলে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাবের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *