আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে, হামাস প্রত্যাখ্যান করতে পারে : হামাস কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক
এনভি টোয়েন্টিফোর ডটকম
০১ অক্টেবর ২০২৫

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি-কে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা হামাস প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
কারণ, এ পরিকল্পনায় ‘ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে’ এবং ‘ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে’। ইতোমধ্যে গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ(পিআইজে) ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
হামাসের নিরস্ত্র হওয়া এবং অস্ত্র হস্তান্তর করতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা- যেটি ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূল শর্ত।

তাছাড়া, হামাস গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকরণ বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনেরও বিরোধী, এমন কথাও বলা হয়েছে । এই বাহিনী মোতায়েনকে হামাস নতুন ধরনের দখলদারিত্ব হিসাবেই দেখছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তবে হামাস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিকল্পনার বিষয়ে তাদের জবাব জানায়নি।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাব দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পড়ে দেখছে। তবে গাজায় হামাসের সামরিক কমান্ডার ইজ-আল দিন আল-হাদ্দাদ শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করার চেয়ে বরং লড়াই চালিয়ে যেতেই বদ্ধপরিকর বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলায় অংশ নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ’ (পিআইজে), যাদের হাতে এর আগে কিছু জিম্মিও বন্দি ছিল, তারা মঙ্গলবার ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
হামাসের জন্য এই শান্তি পরিকল্পনায় প্রধান যে শর্তটি আপত্তিকর, তা হচ্ছে- একবারে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি। কারণ, সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া মানে তাদের দরকষাকষির একমাত্র হাতিয়ার ছেড়ে দেওয়া।
পরিকল্পনায় ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও ইসরায়েল একবার জিম্মিদেরকে হাতে পেয়ে গেলে যে আবার গাজায় সামরিক অভিযান ও গণহত্যা শুরু করবে না সে বিষয়ে বিশ্বাসের অভাব আছে হামাসের।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে এ মাসের শুরুতে ইসরায়েল কাতারে হামাস নেতাদের ওপর হামলা করার যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে তাতে এই আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
হামাসকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার জবাব দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে তিন থেকে চার দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন।
হামাস পরিকল্পনা মেনে না নিলে পরিণতি খুবই দুঃখজনক হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তার শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন।
এদিন হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, হামাস শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে তিনি ইসরায়েলকে যা করার তা করতে পূর্ণ সমর্থন দেবেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের লনে তার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, “আমরা কেবল হামাসের জন্য অপেক্ষা করে আছি।”
পরিকল্পনায় সব আরব দেশ এবং মুসলিম দেশ সই করেছে। ইসরায়েলও সই করেছে বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, হামাস এই পরিকল্পনায় তাদের জবাব জানানোর জন্য তিন-চার দিন সময় পাবে। তারা যদি পরিকল্পনাটি সই না করে তাহলে পরিণতি হবে খুবই দুঃখজনক।
ট্রাম্প বলেন, হামাস অনেক বড় মূল্য দিয়েছে। তিনটি ভিন্ন সময়ে তাদের নেতারা নিহত হয়েছেন। আমরা হামাসের কাছ থেকে অবিলম্বে জিম্মিদেরকে ফেরত চাই এবং তাদের কাছ থেকে ভাল আচরণ চাই।
ভার্জিনিয়ায় কোয়ান্টিকোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, এই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা খুবই চমৎকার। সবাই একসঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনা হয়েছে। এটি কাজ করে গেলে তা হবে ‘এ প্লাস’।
এই পরিকল্পনায় গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়াও জিম্মিদের ফেরত আনা এবং যুদ্ধপরবর্তী গাজার শাসনভার চালাতে সহায়তা করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *