জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে চালু ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ইসরাইল অিধিকৃত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ নামে নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চালু করেছেন ইসরাইলে দখলদাবিত্ব ও গণহতার মূল মদতদাতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এতে যোগ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে এই বোর্ডের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এটি জাতিসংঘের কূটনৈতিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, বোর্ডটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প নিজেই। আন্তর্জাতিক আইন লংঘনকারী হিসেবে নিন্দিত ট্রাম্প নিজেই গাজার নিজের তৈরী এই বোর্ডের স্বঘোষিত রাজা হয়েছেন। তিনি বলেন, বোর্ডটি পুরোপুরি গঠিত হলে তারা ‘প্রায় যে কোনো কিছুই করতে পারবেন’ এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা কাজ করবেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা অনেক হলেও তা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজার যুদ্ধবিরতি ছাড়াও বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় এই বোর্ড কাজ করবে। তবে এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এই উদ্যোগ বৈশ্বিক কূটনীতি ও সংঘাত নিরসনের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করে দিতে পারে।
তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি এবং উদীয়মান শক্তি ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত পশ্চিমা মিত্র ও বড় বৈশ্বিক শক্তিগুলো বিষয়টি নিয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, বোর্ডের স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যেককে এক বিলিয়ন ডলার করে তহবিলে দিতে হবে। রয়টার্স জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রধান শক্তি, ইসরাইল বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বোর্ডের মূল লক্ষ্য হবে গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, তবে ভবিষ্যতে এটি বিশ্বের অন্যান্য সংকটেও ভূমিকা রাখতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এখনো কেউ বোর্ডে যোগ দেয়নি। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা রুশ সম্পদ থেকে এক বিলিয়ন ডলার দিতে তারা প্রস্তুত।
তবে ফ্রান্স এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্রিটেন জানিয়েছে, আপাতত তারা এতে যোগ দিচ্ছে না। চীন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোর্ডের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা থাকবে।
গাজায় গণহত্যার জন্য জাতিসংঘ আদালতে দন্ডিত যুদ্ধাপরাধী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের ইহুদী জামাতা জ্যারেড কুশনার, গাজা বিষয়ক আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। কুশনার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে গাজার পুনর্গঠন ও স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধরত গাজার ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে নিরস্ত্র করাই হবে সবচেয়ে বড় ইস্যু। তিনি বলেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণ না করলে এই পরিকল্পনা এগোনো কঠিন হবে।
এদিকে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ফিলিস্তিনি কমিটির প্রধান আলি শাআথ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলে দেয়া হবে। যদিও গত বছরের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি অসংখ্য বার লংঘন করে ইসরাইল গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ইসরাইল এখনো গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অবিরতভাবে বাধা দিচ্ছে।

