সর্বশেষসারাদেশ

কুমিল্লায় হিজড়াকে পুড়িয়ে হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১৯ মে, ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১১। সোমবার দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম জহির ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু এই তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, গত ১৩ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (২৯)-কে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আসামিরা। আগুনে দগ্ধ হয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

র‌্যাবের দাবি, ঘটনার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র‌্যাব-৬ সিপিসি-১ এর যৌথ আভিযানিক দল সোমবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা এলাকা থেকে প্রধান আসামি জহির ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‌্যাব জানতে পেরেছে, নিহত এনামুল হক শিশির ও গ্রেপ্তার আসামিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তৃতীয় লিঙ্গের এবং দীর্ঘদিন ধরে একই বাসায় বসবাস করতেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মূলত মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে শিশিরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *