আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

গাজার রাফাহ সীমান্তে অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

ছবি:সি্িনেএন

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সাবেক বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি শুক্রবার মিশরে এক মানবিক সফরের অংশ হিসেবে গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেছেন। জোলির প্রতিনিধিদের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সূত্র: সিএনএন

এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইসরাইল গাজা উপত্যকায় কাজ করা কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইল জানায়, যেসব আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা তাদের নিবন্ধন নবায়ন করেনি, তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে গাজায় কর্মরত সংস্থাগুলোর কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই শর্ত নিয়ে ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাফাহ সফর নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে জোলি বলেন, “আমি মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, যারা গাজায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে নানা বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমি একটি বড় গুদাম ঘুরে দেখেছি, যা এমন সব সামগ্রীতে ভরা ছিল যেগুলো গাজায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি—এর বেশিরভাগই চিকিৎসা সরঞ্জাম।”

ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে ১০টি দেশ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজার মানবিক পরিস্থিতি আবারও ‘নতুন করে অবনতির’ মুখে পড়েছে এবং উপত্যকাটির অবস্থা এখনো ‘চরম বিপর্যস্ত’। যদিও ইসরাইলের দাবি, হামাস যাতে আন্তর্জাতিক সহায়তার অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই এসব নিবন্ধন বিধি জারি করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক পর্যালোচনায়ও হামাসের মাধ্যমে ব্যাপক সহায়তা চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা বর্তমানে কঠোর শীতকাল পার করছে। ভারী বৃষ্টি ও তীব্র ঠান্ডা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় বহু অস্থায়ী তাঁবু ধ্বংস হয়ে গেছে। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে ঘরবাড়ি ও ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

সফরের সময় জোলি মিশরের রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য স্থানীয় ত্রাণ সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গাজায় কীভাবে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “কী করা দরকার, তা স্পষ্ট—যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে এবং নিরাপদ ও ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ, জ্বালানি ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছাতে হবে। শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কোনো বিলম্ব ছাড়াই পাঠানো উচিত। প্রতিটি বিলম্বিত দিন প্রাণহানি বাড়ায়।”

ত্রাণ সহায়তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জোলি। তার কার্যালয় জানায়, মিশরে অবস্থানকালে তিনি ফিলিস্তিনি ও সুদানি শরণার্থী পরিবারগুলোর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *