কিশোর সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে বের হওয়া ও হত্যাকান্ডের মাঝের দুই ঘণ্টায় যা ঘটেছিল
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
১৯ মে, ২০২৬
গুলির ঘটনার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে সন্দেহভাজন এক হামলাকারীর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর পায় পুলিশ। জানা যায়, বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি অস্ত্র নিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে ১৭ বছর বয়সের ওই সন্দেহভাজন। কিশোরের মা নিজেই পুলিশকে এ খবর জানান।সূত্র: সিএনএন
এরও ঘণ্টা দুয়েকের কিছু বেশি সময় পর সান ডিয়েগোর মসজিদে গুলির ঘটনা ঘটে। মাঝের সময়ে আসলে কী কী ঘটেছিল। কর্তৃপক্ষ তা জানিয়েছে।
সকাল ৯টা ৪২ মিনিট
পুলিশের কাছে একটি ফোনকল আসে। কলটি করেন একজন মা। তিনি জানান, তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের গাড়িটিও নেই। বাড়িতে থাকা কয়েকটি অস্ত্রও খোয়া গেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল এ তথ্য জানান। পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ওই নারী ফোনে জানান, তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল। আজ অন্য আরেকজনের সঙ্গে রয়েছে সে। দুজনই ছদ্মবেশ নিয়েছে।
বেলা ১১টা ৪২ পর্যন্ত
ওই মায়ের ফোনকল পাওয়া পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় পুলিশ। ‘বড় পরিসরে’ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলে। দুজনকে খুঁজে বের করার জন্য গাড়ির লাইসেন্স প্লেট রিডার ব্যবহার করা হয়। সন্দেহভাজনদের একজনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের কারণে স্থানীয় ম্যাডিসন হাইস্কুলে পুলিশ পাঠানো হয়।
বেলা ১১টা ৪৩ মিনিট
পুলিশ জানতে পারে, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে (মসজিদ) বন্দুকধারী ঢুকে পড়েছে।সবচেয়ে কাছাকাছি জায়গায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন।
বেলা ১১টা ৪৭ মিনিট
এ খবর পাওয়ার মাত্র চার মিনিটের মাথায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় মসজিদের বাইরে তিনজন মুসল্লির লাশ পড়ে ছিল। কিন্তু তখনো সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর হদিস মেলেনি।
মসজিদ ও এর সংলগ্ন বিদ্যালয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। হামলাকারীদের খোঁজে পুলিশ প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায়। ভেঙে ফেলা হয় বন্ধ দরজা।
প্রায় একই সময়ে
পুলিশ যখন তল্লাশি চালাচ্ছে, প্রায় একই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্লক দূরে একটি গাড়ি থেকে পথের ধারে দায়িত্বপালনরত এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিটি ওই ব্যক্তির হেলমেটে লাগে। বেঁচে যান তিনি।
কিছু সময় পর
পথের ধারের ওই ব্যক্তিকে গুলি করার কিছু সময় পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভেতরে দুজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ছিল।
পুলিশপ্রধান জানান, ওই গাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় দুজনকে পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, মসজিদে হামলার পর ওই দুই সন্ত্রাসী আত্মহত্যা করেছে।
স্কট ওয়াহল বলেন, ওই নারীর (১৭ বছরের সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মা) কাছ থেকে ফোনকল পাওয়ার পর বাসা থেকে নেওয়া অস্ত্রের সংখ্যা বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা বুঝতে পারছিলেন, ওই কিশোর অন্যের জন্য হুমকি হতে পারে। কেননা, তার কাছে তিনটি অস্ত্র ছিল।

