আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ইরানে আগ্রাসনকে ধর্মযুদ্ধে রূপান্তরে ইভানজেলিকদের প্রচার

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১০ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। এই আগ্রাসনকে খ্রিষ্টীয় বয়ানে ‘ভালো-মন্দের’ লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে সমর্থন টানার চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দেশটির জনগণের কাছে এই আগ্রাসন যথেষ্ট আবেদন তৈরি করতে পারেনি। মার্কিনরা এই যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবেই দেখে আসছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ইভানজেলিক খ্রিষ্টধর্মীয় নেতারা ইরানে আগ্রাসনকে প্রয়োজনীয় হিসেবে প্রমাণের জন্য জোর প্রচার চালাচ্ছেন। তারা একে ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে আমেরিকার জনগণের কাছে উপস্থাপন করছেন।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়ও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের মৃত্যু দেশটির জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তা সত্ত্বেও যুদ্ধের গুরুত্ব উপস্থাপন করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। ইরানে আগ্রাসনকে ধর্মীয় পরিভাষার আবরণে মুড়িয়ে প্রচার করছেন তিনি।

সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এক বৈমানিক উদ্ধারকে ‘ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ঠিক ওই সময়ই খ্রিষ্টধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার’ উদ্‌যাপন চলছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনে ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ’ রয়েছে বলে আসছেন তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ ক্ষেত্রে আরো অগ্রসর হয়েছেন। বাইবেলের শ্লোক উল্লেখ করে তিনি ইরানে আগ্রাসনকে যৌক্তিক হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়াস চালাচ্ছেন।

রক্ষণশীল ইভানজেলিক খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ের নেতারাও একই কথার পুনরাবৃত্তি করছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ টেক্সাসের প্রভাবশালী ধর্মযাজক রবার্ট জেফরিস থেকে ছোট ছোট শহরের প্রচারেরাও একই সুরে কথা বলছেন। তারা বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে আধুনিক ইসরাইলের অস্তিত্বের গুরুত্ব প্রচার করছেন। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী যিশু খ্রিষ্টের পুনরাগমনের জন্য ইসরাইল রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *