জাতীয়সর্বশেষ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সেই একই মামলায় শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শওকত মাহমুদ জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা। অবশ্য দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড চালানোর কারণে কয়েক বছর আগে তাকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

ডিএমপি’র মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকা থেকে এনায়েত করিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় প্রাডো গাড়িতে করে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘুরছিলেন তিনি। পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঘোরাঘুরির কারণ জানতে চাইলে এনায়েত করিম কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তখন পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা মডেল থানায় মামলা করে।

উল্লেখ্য,এনায়েত করিমকে গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, এনায়েত করিম নিজেকে মাসুদ করিম নামে পরিচয় দেন। তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রধান বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখান। ২০১৮ সালের ভোটের আগেও তিনি একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দেশের বাইরে বৈঠক করেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়েছে, আসামি এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বাস্তবে তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার মিশন নিয়ে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি বর্তমান সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তার দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *