আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ইউক্রেন নিয়ে মস্কোয় রুশ-মার্কিন কর্মকর্তাদের ৫ ঘন্টাব্যাপী বৈঠক

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে মস্কোয় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বৈঠকে যোগদেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

যুদ্ধ অবসানে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ‘কোনো আপস’ হয়নি। মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এক রুশ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। সূত্র:আল-জাজিরা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে তারা এ বৈঠক করেন। এ বৈঠক প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এবং মধ্যরাতের পর শেষ হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আপসে পৌঁছাতে পারিনি। তবে মার্কিন কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগোতে পারে।’

উশাকভ মঙ্গলবারের আলোচনাকে ‘খুবই ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ উল্লেখ করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও মস্কো— উভয় পক্ষের সামনে এখনো অনেক কাজ বাকি।’

মার্কিন প্রতিনিধিদল একটি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে রাশিয়ার রাজধানীতে গিয়েছিল। সেখানে আগের ফাঁস হওয়া ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়ার হালনাগাদ সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হয়। ফাঁস হওয়া ‘খসড়াটি রাশিয়ার পক্ষে গেছে’— ইউক্রেন ও দেশটির মিত্রদের এমন কঠোর সমালোচনার মুখে ওয়াশিংটন এতে পরিবর্তন আনে।

কিয়েভ ও ইউরোপের পাল্টা প্রস্তাবটিরও নিন্দা করেছে ক্রেমলিন। পুতিন বারবার বলে আসছেন, এটি তার দেশের কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’।যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন একটি বিনিয়োগ ফোরামে কড়া বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার দেশ ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের ইঙ্গিত করে পুতিন বলেন, ‘তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, (শান্তি পরিকল্পনায়) এসব পরিবর্তনের একটাই লক্ষ্য— পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়া। এমন সব দাবি তোলা হচ্ছে যা রাশিয়ার কাছে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’

৭৩ বছর বয়সী পুতিন আরও বলেন, তুরস্ক উপকূলে রুশ তেলবাহী জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনীয় বন্দর ও জাহাজে, এমনকি কিয়েভের সমর্থকদের তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও হামলা বাড়াবে রাশিয়া।

পুতিনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এটা স্পষ্ট যে, পুতিন চান না যুদ্ধ শেষ হোক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গতকাল তিনি বললেন, পুরো শীতকালজুড়েই লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। আজ তিনি সমুদ্রবন্দর ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি দিচ্ছেন।’

ট্রাম্প তার দিক থেকে স্বীকার করেছেন যে সমঝোতার আলোচনা কঠিন। ওয়াশিংটন ডিসিতে কেবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজন এখন রাশিয়ায় আছে এটা দেখার জন্য যে, আমরা বিষয়টা মিটমাট করতে পারি কি না।’

এদিকে আয়ারল্যান্ড সফরকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, একটি ‘সম্মানজনক শান্তি (চুক্তি)’ প্রয়োজন। ডাবলিনে এক অনুষ্ঠানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়া ওপর আগ্রহ হারাতে পারে কি না। জবাবে তিনি বলেন, তার ভয় কিয়েভের মিত্ররা ‘ক্লান্ত’ হয়ে পড়তে পারে।

জেলেনস্কি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে আমেরিকার আগ্রহ সরিয়ে নেওয়াই রাশিয়ার লক্ষ্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *