আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আয়োজনের চেষ্টায় তিন মুসলিম দেশ

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২5 মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সূত্র:আলজাজিরা

হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৫ দফা একটি প্রস্তাবনা পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো দ্রুত একটি মুখোমুখি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে।

এদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে প্রায় ২,৫০০ সেনা সদস্য নিয়ে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর খবর পাওয়া যায়। সর্বশেষ, আরও প্রায় ১,৫০০ সেনা নিয়ে ৮২তম এয়ারবোর্ন ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ইউনিটগুলো বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক অভিযানে প্রশিক্ষিত।

অন্যদিকে, ইরানি আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দুই প্রতিনিধি—জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বরং তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।

এ সময় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তিনি একজন যোদ্ধা। তিনি আমাদের সঙ্গে লড়ছেন।”

সব মিলিয়ে, একদিকে যেমন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সামরিক তৎপরতাও বাড়ছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

১৫ দফায় যা বলা হয়েছে:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত প্রকাশ হয়েছে।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শান্তি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব কমিয়ে আনা।

শান্তি প্রস্তাবে ইরানের প্রতি প্রধান শর্তসমূহ:

১. ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

২. ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (প্রক্সি) সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এসব গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া থেকে ইরানকে বিরত থাকতে হবে।

৪. বর্তমানে ইরানের যেসব পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, তা পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।

৫. ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।

৬. ইরানের ভূখণ্ডে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না। বর্তমানে থাকা সব সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৭. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

৮. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে; যা কি না শুধু আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিবিসি জানায় ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানকে তিনটি বড় সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা হল,

১. বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দেবে।

২. ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

৩. ভবিষ্যতে আর কখনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসব্যাপী একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকার—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *