জাতীয়সর্বশেষ

ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক মাসুদ উদ্দিন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

২4 মার্চ, ২০২৬

ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের অন্যতম নেপথ্য নায়ক ফেনী-৩ আসনের সাবেক বিনা ভোটের এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করেছে ডিবি। গত রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল বারিধারা ডিওএইএস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

বিপুল অর্থ নিয়ে গণভবনে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে গিয়েছিলেন বলেও শোনা যায়। সেখান থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির টিকিট নিতে। পাশের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয় গণভবন থেকে। পরামর্শমতো সরাসরি তৎকালীন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলের পদ ও মনোনয়নের টিকিট নিয়ে বাসায় ফেরেন। জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

এই গ্রেপ্তার ভালো সূচনা: ফারুকী

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের প্রধান কুশীলব মাসুদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার বর্তমান সরকারের একটা ভালো সূচনা। এবার তদন্ত শুরু হোক ওয়ান-ইলেভেনের আদ্যোপান্ত নিয়ে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লেখেন, ওয়ান-ইলেভেনের প্রধান ক্রীড়নক মাসুদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার বর্তমান সরকারের একটা ভালো সূচনা মাত্র। এবার তদন্ত শুরু করা হোক ওয়ান-ইলেভেনের আদ‍্যোপান্ত নিয়ে। এমনকি ২০০৮-এর নির্বাচন নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত।

ওয়ান-ইলেভেন হচ্ছে সব সর্বনাশের গোড়া। এই যে শত শত মানুষ গুম, হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন, বিডিআর ম‍্যাসাকার, শাপলা ম‍্যাসাকার, নির্বাচন-ব্যবস্থা ভ‍্যানিশ করে দেওয়া, জুলাই হত‍্যকাণ্ডসহ হাসিনার সব অপকর্মের লাইসেন্স এসেছে ওই ওয়ান-ইলেভেন থেকে।

তিনি আরো লেখেন, মনে রাখতে হবে, ট্রমা-আক্রান্ত জাতির সামনে আগানো এবং হিলিংয়ের জন‍্য দুইটা জিনিস দরকার—বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণ। স্মৃতি সংরক্ষণ বলতে বোঝাচ্ছি ইতিহাস সংরক্ষণ। সেটা মিউজিয়াম, ডকুমেন্টেশন, রিপোর্টসহ নানাভাবেই হতে পারে। বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ ঘটে যাওয়া মাত্র ওই অধ‍্যায় নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের দিকে আগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

“কিন্তু এ দুই কাজ অসমাপ্ত রেখে যদি ‘চলো সব ভুলে যাই’ বলে সামনে আগাই, তাহলে দুইটা বিপদ—এক. অপরাধীদের অথবা নতুন অপরাধীদের উৎসাহ দেওয়া হয়। তারা তখন পরবর্তী অপকর্ম থেকে জাস্ট একটা সুযোগ দূরে সর্বদা দণ্ডায়মান থাকে এবং দুই. বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণ ছাড়া সামনে আগালে ক্ষোভ থেকে যায় মানুষের যৌথ স্মৃতিতে। হিলিংয়ের জন‍্য এটা আদর্শ অবস্থা নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *