আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ; ইরানের হামলায় শত শত ইসরাইলি হতাহত

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২2 মার্চ, ২০২৬

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর সাম্প্রতিক ধাপে শত শত মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে, যা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে ভারী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সূত্র: প্রেস টিভি

শনিবার (২১ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, অভিযানের ৭৩তম ঢেউয়ে অধিকৃত অঞ্চলের দক্ষিণ ও উত্তর উভয় অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিমান প্রতিরক্ষা খাতের শহীদদের সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির মতে, ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বের শেভা এবং কিরিয়াত গাত-এর সামরিক স্থাপনা ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধফরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

এই ৭৩তম ধাপে ফাত্তাহ, কদর এবং এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

হতাহতের খবর ও গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ

বিবৃতিতে মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই প্রতিশোধমূলক হামলার সাম্প্রতিক ধাপের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা ধামাচাপা দিতে জায়নবাদী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর সেন্সরশিপের চাপ বাড়িয়েছে।

হিজবুল্লাহর ভূমিকার প্রশংসা

আইআরজিসি লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের ‘গৌরবময় প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করে বলেছে যে, তারা লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি অধিকৃত অঞ্চলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে একটি ‘কঠিন ও উচ্চ-চাপের যুদ্ধক্ষেত্র’ তৈরি করেছে। 

বিবৃতিতে লেবাননের জনগণ ও এই অঞ্চলের মুসলিমদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি অধিকৃত অঞ্চলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ ও পরিত্যক্ত বলে বর্ণনা করেছে এবং এর জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার উস্কানিমূলক নীতিকে দায়ী করেছে। 

এতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে যে এলাকাগুলোতে আবাসিক অঞ্চলের কাছে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

যুদ্ধের সমীকরণ পরিবর্তন

আইআরজিসি পরিশেষে দাবি করেছে, যুদ্ধের সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অধিকৃত অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ছে।

ডিমোনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক সেন্সরশিপ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সংবাদ অনুযায়ী জানা গেছে যে এই প্রতিশোধমূলক হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। শহরটি তার আশেপাশে বিতর্কিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির কারণে অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। 

সরকারিভাবে প্রায় ৫০ জন আহতের কথা বলা হলেও, সেখানে কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্স এবং বেশ কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করায় স্থানীয়দের দেওয়া হতাহতের সংখ্যাটিই সত্যের কাছাকাছি বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে যে, ইরানি প্রতিশোধের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাদের তথাকথিত হোম ফ্রন্ট সবচাইতে কঠিন রাত পার করেছে। ওই দিন থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের বিনা উস্কানিতে চালানো আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিরবচ্ছিন্ন ও চূড়ান্ত পাল্টা হামলা শুরু করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *