সর্বশেষসারাদেশ

বৈধভাবে টাকা বহন সত্ত্বেও জামায়াত নেতাকে আটক ও হেনস্থা করেন রংপুরের এসপি শেখ জাহিদ

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে টাকাসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস কে জাহিদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও নানা বক্তব্য সামনে এসেছে।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন জামায়াতের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আমির বেলাল উদ্দিন। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার লাগেজ তল্লাশি করে গণনা শেষে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। সম্পূর্ণ বৈধ পন্থায় এই টাকা তিনি বহন করছিলেন। তারপরও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকের পর তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।

তবে ওই টাকা বহনের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে নগদ অর্থ বহনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনি সময় বৈধ উৎস প্রদর্শন করতে পারলে টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আমির বেলাল উদ্দিন ব্যবসায়ী কাজে নগদ টাকা নিয়ে বিমানযোগে তার এলাকায় যাচ্ছিলেন। কাস্টমসের অনাপত্তিতে তাকে টাকা বহনের ছাড়পত্র দেয় ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।

এমনকি তাকে নির্যাতন করেন নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। এই নির্যাতনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সেই সাথে মিডিয়া ফ্রেমিং করে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি। সেই নাটকের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম ফ্যাসিবাদের দোসর। তিনি সাবেক ডিবি প্রধান ভারতে পলাতক মনিরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। তিনি জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *