আমাদের প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন
এনভিবিডি২৪ডটকম
04 জানুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে নির্বাচনী আমেজ চোখে পড়ছে। এর পূর্বে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় নির্বাচনে এমনি আমেজ দেখেছিলাম। ওয়ান ইলেভেনের জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ নিয়ন্ত্রিত সরকার আমলে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছিল- তা ছিল একটি পাতানো নিস্প্রভ নির্বাচন। ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমেদরা ভারতের দালাল হয়ে বাংলাদেশে একটি প্রহসন ও নীল নকশার নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন।
২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমান মাত্র তিন মাসে প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূসের প্রতি দেশের মানুষের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক কর্মকান্ড সমালোচিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও মানুষের বিশ্বাস এই সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিত পারবে।
২০০৭-২০০৮ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকার ছিল অবৈধ, ভারত নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই বিপ্লবের ফসল। একটি বৈধ সরকার। ২০২৪ এ আগষ্টে সফল বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন ঘটেেএবং এই সরকার দলের সব নেতা দেশ ছেড়ে ভারতে পলায়ন করেছে। তারপর গঠিত হয় এই সরকার। এই বিপ্লবে প্রায় দুইহাজার তরুণ শহীদ ও হাজার হাজার আহত হন। শহীদ ও আহতদের রক্তের নজরানায় গঠিত এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। এই সরকার কোন অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে দিতে পারে না। এমনটি হলে এদেশের মানুষ পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তাহলে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত হবে তাদের পরিণতি বিগত সরকারের চেয়ে আরও খারাপ হতে পারে।
শোনা যাচ্ছে দিল্লী ও পতিত স্বেরাচরের দোসররা চাচ্ছে না যে বাংলাদেশে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। এজন্য তারা নির্বাচন ঠেকাতে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র চালিয়েই যাচ্ছে।
২৫ বছর পূর্বে ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল না। গণমাধ্যমের প্রযুক্তিগত উন্নয়নও এতোটা ছিল না। কিন্তু সেই সময়ে যে নির্বাচনী আমেজ ও আনন্দ দেখেছিলাম। সেরকম এখনও মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে । যদিও কিছু ভিন্নতা রয়েছে সময়ের বিশাল ব্যবধানে।
ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। তিনি তিনবার জাতীয় নির্বাচনের নামে বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারনা করেছিলেন। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা দখলের পর দেশে খুন-গুম-অপরহণ ও লুটপাটেরএক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। গণরোষ ও বিপ্লবে তার পতন ঘটে। কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন এই ডাইনি ।
এদেশের প্রায় সব মানুষ মূলত ২০০১ সালের অক্টোবরের পর সকলে ভোট দিতে পারেনি। এরমধ্য অনেক নাগরিক মারা গেছে। নতুন তরুণ ভোটার হয়েছে চার কোটি।
দেশের মানুষ দীর্ঘ দিন ভোট দিতে পারেনি। এমনকি আ’লীগের লোকেরাও ভোট দিতে পারেনি। ভোটের প্রয়োজনও ছিল না তাদের । ক্ষমতা তো পুরদস্তর তাদের দখলেই ছিল। তা যে তাদের হাত ছাড়া হবে তা তারাও কল্পনা করতেও পারেনি। তবে জুলুমের শেষ আছে। জালেম শেষ সময় তা যখন বুঝতে তখন তার শোধরানোর সময় থাকে না। সব ক্ষমতার রশি যে আল্লাহর হাতে। তা আবারও প্রমাণিত হল।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার দেশের মানুষকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যাচ্ছে। সাধারণ খেটে খাওয়া অনেক মানুষ তাদের গ্রামের বাড়িতে যাবেন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেয়ার আশায়।
গতকাল আমার বন্ধুর সাথে কথা বললাম উত্তরাতে। তিনি পরিবার সহ উত্তরায় থাকেন। আমাকে বললেন দোস্ত বহু বছর পর ভোট দিব। তার মধ্য আনন্দ দেখলাম। তিনি বললেন ভোটের দিন হয়ত বাস মটর সাইকেল পাবো না। সমস্যা নেই আমি উত্তরা দেখে মহাখালী রিকশায় যাবো। টাকা যত খরচ হোক সমস্যা নেই।
রাস্তা ঘাটে বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে উৎসবমুখর দেখছি। তারা নাগরিক অধিকার হিসেবে ভোট দেয়ার আশায় মুখিয়ে আছেন।
এরপরও আশংকা রয়ে গেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? আমরা কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবো?
অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার যদি এই নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে সম্পন্ন করতে পারে- তাহলে তারা ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেটা হবে ড. ইউনুসের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর যদি সেটা না পারে তাহলে তারা নিন্দিত হবে।এতে দেশে ভয়াবহ ক্ষতি হবে। হতাশ হবে বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের জনগণ। পাবে। সবচেযে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ড. ইউনুস। তার সারাজীবনের সব অর্জন চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আল্লাহ আমাদের দেশকে হেফাজত করুন।
লেখক:সাইফুল ইসলাম তানভীর

