আজ পবিত্র শবেবরাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
লাইলাতুল মোবারাকা বা পবিত্র শবেবরাত আজ মঙ্গলবার। ইসলামে মধ্য শাবান তথা হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখের রাতকে বরকতময় রাত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই রাত গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল ও রমজানের প্রস্তুতির। রাতটি ভাগ্যরজনী বা সৌভাগ্যের রাত হিসেবে পরিচিত।
বিশেষকরে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে শবেবরাত পালন করে থাকেন। মসজিদগুলোয় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে এই রাত অতিবাহিত করেন তারা। পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং নিজেদের পাপ মোচনে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন মহিমান্বিত এই রাতে।
শবেবরাত মুসলমানদের কাছে রমজানের আগমনীবার্তাও নিয়ে আসে। কারণ, এই শাবান মাসের পর আসে পবিত্র রমজান মাস। তাই শবেবরাত থেকেই কার্যত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।
শবেবরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন।
বরাবরের মতো এবারও শবেবরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ মাগরিবের নামাজের পর ওয়াজ মাহফিলের মধ্য দিয়ে বায়তুল মোকাররমে শবেবরাতের অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাতের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করবেন মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী। পরে ওয়াজ করবেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান। ব্যক্তিগত নফল ইবাদত ও জিকির-আসকারের জন্য বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সারা রাত মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শবেবরাতের অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অনুরূপ আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
শবেবরাত উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে। তবে দৈনিক পত্রিকার অফিসগুলো আজ মঙ্গলবার বন্ধ থাকায় আগামীকাল বুধবার পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।
শবেবরাত উপলক্ষে সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ধর্মীয় স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ইউনিফর্মধারী টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও মাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের প্রতিটি ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত সহায়তা পেতে র্যাবের কন্ট্রোল রুমে (এই নম্বরে ০১৭৭৭৭২০০২৯) যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
হাসনাতের আসনে এনসিপির প্রতিনিধির ওপর হামলা
উপজেলা প্রতিনিধি, দেবিদ্বার (কুমিল্লা)
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১: ৩৭
হামলার শিকার এনসিপির প্রতিনিধি এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: আমার দেশ
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক প্রতিনিধির ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই হামলার প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এনসিপির প্রতিনিধি মোহাম্মদ কাওসার আলমকে রাস্তায় একা পেয়ে সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং নির্মমভাবে মারধর করে মৃতপ্রায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনি ব্যানারে আগুন, তদন্তে প্রশাসন
তিনি আরো লিখেছেন, আজ বিকেলে আমাদের নির্বাচনি ব্যানার পুড়িয়ে দিয়ে সন্ত্রাস ও ভীতির রাজনীতি চালানো হয়েছে। এই হামলা ও নৈরাজ্যের পেছনে থাকা ব্যাংক ডাকাত ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আইনগতভাবেই কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইনশাআল্লাহ দেবিদ্বারবাসী এই সন্ত্রাসের উপযুক্ত জবাব ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই দেবে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তদন্ত করছে। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
ফাইল ছবি
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ভারতীয় পণ্যে আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই ঘোষণা দেন তিনি। এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন। এর ফলে দিল্লির বিরুদ্ধে রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা তুলে নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত আগামী দিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা কেবল বাণিজ্যই নয়, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। ভারতে তৈরি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করায় ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে তাকে অনেক ধন্যবাদ।’
মোদি জানান, বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন সাধারণ মানুষই উপকৃত হয়। তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বকে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল এবং ভারতীয় রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। নতুন এই চুক্তিকে সেই উত্তেজনা প্রশমনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট
পাকিস্তানের এক ধাক্কায় নড়বড়ে আইসিসির রাজস্ব ও ক্রিকেট ইকোসিস্টেম
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান, এই সিদ্ধান্তের পরপরই সর্বপ্রথম সামনে এসেছে আর্থিক বিষয়টি। কারণ, বিশ্ব আসরে এক ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই আইসিসি পুরো আসরের বাকি ম্যাচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লভ্যাংশ পায়। এই ম্যাচই টুর্নামেন্টের আর্থিক আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে বড়সড় একটি ধাক্কাই খেয়েছে আইসিসি। টাকার অঙ্ক ক্ষতির ঘর ছাড়িয়েছি ৬ হাজার কোটি। সেই সঙ্গে ক্রিকেটের ইকোসিস্টেমে বড় ধাক্কা তো আছেই। এমনই তথ্য দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভির দাবি, ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মূল্য অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (চার হাজার ৫০০ কোটি রুপি), বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের প্রিমিয়াম, স্পন্সরশিপ সক্রিয়করণ, টিকিট বিক্রি এবং আইনি বেটিং ও অন্যান্য নিম্নমুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলোকে একত্র করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রিকেটের অন্য কোনো একক ম্যাচ এর ধারেকাছেও থাকে না, যেখানে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য আনুমানিক ১৩৮.৭ কোটি টাকা। সম্প্রচারকদের কাছে তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ টাকার খনি।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপনের একটি হিসেবে দেখিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমটি। সেখানে দেখা যায়, ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বিজ্ঞাপনের হার সাধারণত প্রতি ১০ সেকেন্ডের জন্য ২৫-৪০ লাখ টাকা হয়ে থাকে, যা অন্য শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে ভারতের নকআউট ম্যাচগুলোর কয়েকগুণ। সুতরাং এই ম্যাচটি সরিয়ে নিলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসবে আসরের স্বত্বাধিকারী ওপর। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিজ্ঞাপন থেকে আয় আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা। ম্যাচ না হওয়া মানে মূল্যের চরম লঙ্ঘন। আর্থিক ক্ষতির কারণে জিও স্টার ইতোমধ্যেই আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড় চেয়েছে।
এই আর্থিক ধাক্কা যে শুধু আইসিসি একা হজম করবে না, তা নয়, বরং ক্রিকেটের ইকো সিস্টেমের ওপর দিয়ে বেশ ধকল যাবে। যেমন- একবার সম্প্রচারকারীরা তাদের টাকা ফেরত নেওয়া শুরু করলে, সাধারণত আইসিসি সেই ধাক্কাটি কাটিয়ে নিলেও পরে তা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়ায় সদস্য বোর্ডগুলোর জন্য বরাদ্দ বণ্টন কমে যায়, ফলে সবগুলো বোর্ডের লাভের অঙ্ক হ্রাস পায়। বড় বোর্ডগুলো এই ধকল কাটিয়ে উঠলেও সহযোগী এবং ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলো ব্যাপক টানাটানির মধ্যে পড়বে। কারণ তারা আইসিসির ওপর নির্ভরশীল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাচটি না হলে উভয় বোর্ডই সরাসরি ও পরোক্ষ রাজস্ব বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে লোকসানের সম্মুখীন হবে। ভারতের জন্য এই ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব। পাকিস্তানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার হিসাব। পিসিবি মোট আইসিসি রাজস্বের ৫.৭৫ শতাংশ পায়, যা বছরে প্রায় ৩৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্ষতি এককালীন নয়। সামনেই আরো কয়েকটি বৈশ্বিক আসর রয়েছে। সম্প্রচারকারীরা সেগুলোর জন্য নিশ্চয়তা না পেলে ভবিষ্যতে দুদলের ম্যাচগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এ কারণে পরবর্তী সময়ে সম্প্রচার মূল্য কমিয়ে দিতে পারে তারা। পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত স্পন্সরশিপের আগ্রহও কমতে পারে। বছরের পর বছর রাজস্ব হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত। সব মিলিয়ে এক সিদ্ধান্তেই আইসিসির রাজস্ব খাতে ধস নামার সঙ্গে ক্রিকেটে ইকো সিস্টেমেও লাগল বড়সড় ধাক্কা।
তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ, পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার নির্দেশ তেহরানের
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় সংঘাত এড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগে কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
বিজ্ঞাপন
গত জানুয়ারিতে ইরানে সহিংস বিক্ষোভ ও কঠোর দমনপীড়নের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক তলানিতে নেমে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার হুমকিও দেয়। ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানায়, হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে আঙ্কারা। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচী। ওই বৈঠকে ফিদান ইরানে হামলার বিরোধিতা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দেন। এরপর এরদোগান সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সের ব্যবস্থাও করেন। আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কয়েকটি প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী বাঘেরি স্পষ্ট করে বলেন, সম্ভাব্য কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশের কাছে হস্তান্তরের প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের খবরকে তিনি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে জানান, তেহরান কখনোই ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনা বা চুক্তিতে যাবে না।

