অর্থনীতিসর্বশেষ

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক 

এনভিবিডি24ডটকম

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নির্ধারিত তারিখে চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সামারি (সারসংক্ষেপ) পাঠানো হয়েছে।

আজ রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারির সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ায় ওই দিনই চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

শুল্ক কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি, হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারব না, এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করলেও আলোচনার সুযোগ রাখে। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা আলোচনার পর গত ৩১ জুলাই এই হার কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। যদিও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। পরবর্তীতে শুল্ক আরও হ্রাস এবং মার্কিন তুলা ব্যবহৃত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকে, যা এবার চুক্তির দিকে গড়াচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, জ্বালানি তেল, এলএনজি, গম ও তুলা আমদানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বোয়িং তারা কতগুলো, কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে কী দাম হবে, আমাদের বোয়িংয়ের ভেতরের কনফিগারেশন কী হবে- এসব বিষয় নিয়ে নেগোসিয়েশন আছে, সেটা চলছে। এখানে কি যুদ্ধবিমানও আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যুটা কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।

এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে।

সচিব জানান, জাপানের সঙ্গে এফটিএর আলোচনা শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা চলতি বছরেই চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাজারেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেলেও বাংলাদেশের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম, যা প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *