রাজনীতিসর্বশেষ

প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না : ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’। তিনি বলেন, আগের মতো গায়ের জোরে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে যুবসমাজ তা প্রতিহত করবে। জুলাই বিপ্লবের যুবসমাজ ঘুমিয়ে যায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম মিলনের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’নষ্ট করা হচ্ছে। নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে; সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। এর ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই এই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।

৫ আগস্টের পর জামায়াত কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা বা হয়রানি করেনি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের অভিনন্দন জানাবে। আমরা বিজয়ী হলে আমাদের মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা অন্যদেরও থাকতে হবে।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদের বছরে তার সব আয়-ব্যয় ও কার্যক্রম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দেশের মুক্তিকামী মজলুম জনগণ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদেরই বিজয়ী করবে; এতে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল বার্তা দেবে— এরা কোনো চাঁদাবাজি করে না এবং কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করবে না।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সাথে সাথেই ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবস হয়ে যাবে; বাকি ১০ ভাগকে বোঝাব; না মানলে যা করার দরকার তা-ই করা হবে। চেহারা না দেখেই সেদিন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের স্বার্থে সেদিন আমরা নির্দয়-নিষ্ঠুর হব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দেশের প্রধান সমস্যা; এগুলো বন্ধ হলে বাংলাদেশ জাম্প দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে; দেশের উন্নয়ন হবে। সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের কারণে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে— উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত মাসের ২৮ তারিখে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের রুখে দিয়েছিলেন; কারওয়ান বাজারের মতো সারা দেশের ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজির ‘হাত অবশ’ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজ বললেই তাদের গায়ে ফোসকা পড়ে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে চাঁদাবাজি বন্ধে জামায়াত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মাঠে কাজ করবে।

যুবকদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদকগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশের মতো এত যুবসমাজ নাই। প্রত্যেক যুবক আমাদের দেশ গড়ার কারিগর। আমরা যুবক-যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করব না। আমরা তাদের হাতগুলো দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব।

সমাবেশে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে নির্বাচিত হলে ঢাকা-১২ এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার অঙ্গিকার করেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ভাগ্য বদলে কাজ করার কথা বলেন।

ঢাকা-১২ আসনের নির্বাচন কমিটির পরিচালক ও তেজগাঁও দক্ষিণ থানার আমির ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদীর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন, জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির সাইফুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *