জাতীয়সর্বশেষ

ঢাবিতে ছাত্রদলের চাঁদাবাজির অভিযোগ, ডাকসুর বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

2৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ও অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ প্রকাশ করেছে ডাকসু। তবে এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রদল।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোববার দুপুরে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডকুমেন্টারি ফিল্মের মাধ্যমে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও, অডিও ও অন্যান্য নথি প্রজেক্টরে প্রদর্শন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, “আমরা কারও পতন চাই না, আমরা সংশোধন চাই। যেসব দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল—ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব থাকবে না।”

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করেন। তারা হলেন- বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ হাসান সাদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবিদ আব্দুল্লাহ, রাতুল, কাওসার মাহমুদ এবং সানি সরকার।

সর্বমিত্র চাকমা বলেন, দোকান মালিকদের বক্তব্য ও অভিযুক্তদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করা হয় এবং ইতোমধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। তার দাবি, দোকানটি স্থায়ীভাবে দাঁড়ালে সেখান থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এদিকে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরীকে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তফা। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ক্যাম্পাসে একটি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা কিছু ডাকসু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা দোকানগুলো ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, “দেড় থেকে দুই মাস আগের একটি ভিডিও কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তিনি বলেন, “যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ আনা হয় এবং অভিযোগের কোনো সত্যতা আমরা খুঁজে না পাই- তাহলে দ্রুতই অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করব।

এসময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দুটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে —ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ডাকসু প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *