জাতীয়সর্বশেষ

সাংবাদিকদের কেন দালাল বলা হয় জানালেন শফিক রেহমান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজনৈতিক পক্ষ বদলের সংস্কৃতির কারণে সাংবাদিকদের দালাল বলা হয়ে থাকে।  প্রবীণ সম্পাদক ও লেখক শফিক রেহমান এমন মন্তব্য করেছেন।

গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলন-২০২৬-এ তিনি একথা বলেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে।

শফিক রেহমান বলেন, আপনাদের যখন দালাল বলা হয়, আমার খুব দুঃখ লাগে। তবে বলবে না কেন? যারা কদিন আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল, তারা এখন বিএনপির পক্ষে। এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার। এটি ম্যাজিক। আর আপনি সে ম্যাজিকে পাল্লায় পড়েছেন। এই ম্যাজিকে আপনি পড়বেন না। এর মাধ্যমে আপনার সম্মান বাড়ছে না, বরং কমছে। নিজেকে সম্মানিত করতে হলে ইতিবাচক সব গুণ আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন। আপনাদের সম্মানজনক অবস্থায় যেতে হবে। তা না হলে এদেশ টিকবে না। সে জন্য আমি মনে করি সাংবাদিকতা পেশার উন্নতির জন্য একটা নিউজ পেপার স্ট্যান্ডার্ড কমিটি করা উচিৎ। যেখানে সংবাদের স্টান্ডার্ড দেখা হবে।

এসময় জেল ও নির্বাসিত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতার জন্য অন্য পেশাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এই প্রবীণ সম্পাদক। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলেই একজন সাংবাদিক সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারার সক্ষমতা রাখেন। সাংবাদিকতার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে একসময় সেই পেশাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

সম্মিলনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও নাহিদ ইসলামের অঙ্গীকার সত্ত্বেও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতার মান বজায় রাখার প্রশ্নে আপস করা হচ্ছে বা রক্ষা করা যাচ্ছে না।

কামাল আহমেদ বলেন, সাংবাদিকতার সুরক্ষার জন্য আমরা আইনের সুপারিশ করেছিলাম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে। এই আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল সবাই। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের যে দুজন উপদেষ্টা ছিলেন তারা অঙ্গীকার করেছিলেন আইনটা হবে, কিন্তু তা হয়নি। তারা অঙ্গীকার করেও সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেননি। এই সুপারিশের বিষয়টিকে এখন শিকেয় তুলে রেখেছে। এখনো দ্রুত আইনটা করা সম্ভব। আমরা আইনের খসড়া তৈরি করে দিয়েছি।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, ভিন্নভাবে মানুষ কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেড় বছর আগে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরতন্ত্রকে পরাজিত করলাম। একটা রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যখন আমরা লড়াই করছি, তখন গণমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনার মধ্যে যারা ছিলেন, তারা জুলাইকে ব্যবহার করে জুলাইয়ের মূল চেতনা ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

স্বেরাচারের শাসন আমলে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমকে দলনের সময় নিরব ভূমিকা পালনকারী প্রথম আলো পত্রিকার সেই সম্পাদক মতিউর রহমান মনে করেন, সাংবাদিকদের মধ্যে যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক। তাই ঐক্য জরুরি। মত-পথ নির্বিশেষে সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে ঐক্য ও পারস্পরিক সমর্থন রাখার প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ, যে সমাজে সাংবাদিকতা শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেই সমাজ তত বেশি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন হয়। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাকরি অবশ্যই, কিন্তু তার ঊর্ধ্বে একটা চিন্তা আছে -সমাজসেবা। সমাজসেবার মধ্যে আছে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূর করা এবং সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা। এটাই আমাদের পেশার মূলমন্ত্র।

গণমাধ্যম সম্মিলনে নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, জাতীয় প্রেসক্লাব, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *