আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় ১৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যায় বহু এলাকা ডুবে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ৬০০ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে লড়াই করছেন। মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট বিরল এক ঘূর্ণিঝড় গত সপ্তাহে দেশটির তিনটি প্রদেশে আঘাত হানে, যাতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের দুর্যোগ বিষয়ক সংস্থা। আরো অন্তত ৫০০ মানুষ নিখোঁজ আছে। এছাড়া আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সূত্র: বিবিসি

এশিয়ার যেসব জায়গায় এবার প্রবল বর্ষণ ও ঝড় আঘাত করেছে ইন্দোনেশিয়া তার একটি। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কাতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো এসব এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরুরি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

আচেহ প্রদেশের অধিবাসী আমালিয়া বলেছেন, ‘বন্যার পানি অনেকটা সুনামির মতো মনে হয়েছে। আমার দাদির মতে এটা তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।’

রাস্তাঘাট কাঁদা ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে থাকায় ত্রাণকর্মীরা পায়ে হেঁটে ও মোটর সাইকেলে করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

পশ্চিম সুমাত্রায় টুইন ব্রিজ ল্যান্ডমার্কে খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা দেখছিলেন মারিয়ানা নামে একজন। তার আশা যে তিনি তার পনের বছর বয়সী ছেলেসহ পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের খুঁজে পাবেন। ‘খননযন্ত্র দেখছি আর ভাবছি ওরা যখন আমার ছেলেকে খুঁজে পাবে তখন সে কেমন অবস্থায় থাকবে। সে কি অক্ষত থাকবে? আমার মা…আমার দেবর …সম্ভবত তাদের চেহারাটাও বোঝার মতো উপায় থাকবে না।’

বহু মানুষ এখনো খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকেই বলেছেন তারা দুই-তিনদিন ধরে কিছু খাননি।

উত্তর সুমাত্রার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হলো মধ্য তাপানুলি। সেখানকার অধিবাসী মায়াসানতি বলেছেন যে তার এলাকায় ত্রাণকর্মীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু শেষ। খাবার শেষ হওয়ার পথে। এমনকি ইনস্ট্যান্ট নুডুলস নিয়ে মারামারি হচ্ছে। আমাদের খাদ্য ও চাল দরকার। আমাদের দিকে আসার পথ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। ইন্টারনেট ও বিশুদ্ধ পানির মতো প্রয়োজনীয় জিনিস পেতে তাকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়েছে।’

মধ্য আচেহ এলাকায় কর্তৃপক্ষ স্টারলিংক ডিভাইস দিয়েছে। সেখানে মানুষের লম্বা সারি দেখা গেছে। তারা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন বা মোবাইল ফোনে চার্জ দিচ্ছিলেন।

মধ্য তাপানুলির অধিবাসী মার বলেছেন, ‘পাঁচদিন ধরে সিগন্যাল নেই। নেটওয়ার্কের জন্য গতকাল থেকে অপেক্ষা করছি। আমার মাকে ফোন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখনো পারিনি।’

উদ্ধার তৎপরতা বাড়ছে কিন্তু একই সাথে সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। সমালোচকরা বলছেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতিকে দুর্বল ছিল। খাদ্য সাহায্য বিতরণে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিও সামনে আসছে।

গত সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর সুমাত্রা পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু সড়ক এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে সবকিছু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা দৃঢ়তা ও সংহতি নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করছি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতি হিসেবে আমরা এখন শক্তিশালী।’

পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াজুড়ে গত সপ্তাহের বন্যা ও ভূমিধ্বসে ১১০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় মারা গেছে ৩৫৫ জন। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ১৭৬ ছাড়িয়েছে। তবে এই বন্যার জন্য আবহাওয়ার একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। বরং বলা হচ্ছে, আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন কারণ এই বন্যার জন্য দায়ী।

ভিয়েতনামেও গত কয়েক সপ্তাহে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। টাইফুন কোটোর শেষাংশ ভিয়েতনাম উপকূলের দিকে আসতে থাকা আর বর্ষণও অতিরিক্ত বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। যদিও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন থেকে আরো ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা করা হচ্ছে না। তারপরেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এমন ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *