দুর্নীতি ও গুপ্তচরবৃত্তি অভিযোগে ইস্তাম্বুলের মেয়রের ২৩৫২ বছর জেল হতে পারে
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি২৪ডটকম
১২ অক্টোবর, ২০২৫
তুরস্কের বিরোধী দল সিএইচপি’র প্রভাবশালী নেতা ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামওগলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৪২টি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তাকে ২ হাজার ৩৩৫ বছরেরও জেল দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ইমামওগগু অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, তুরস্কের বিরোধী রাজনীতিক ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামওগলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৪২টি অভিযোগ এনেছেন দেশটির প্রধান প্রসিকিউটর। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৫২ বছরের জেল হতে পারে।
ইমামওগলু প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে গণ্য করা হয়। গত মার্চ থেকে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক-বিচারিক আটক অবস্থায় রয়েছেন।
ইমামওগলু এবং তার দল বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় সরকার রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই মামলা দায়ের করেছে।
ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর শুধু ইমামওগলুকে নয় আরও ৪০১ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। প্রসিকিউটর আকিন গুরলেক বলেন, আট মাসের তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১০৫ জন ইতোমধ্যে আটক রয়েছেন। তারা ঘুষ নেওয়া, অর্থ পাচার এবং অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ১৬০ বিলিয়ন লিরা (প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি করেছেন।
৫৪ বছর বয়সী ইমামওগলুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১২টি, অর্থপাচারের ৭টি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জালিয়াতির আরও ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনাদোলু সংবাদ সংস্থার হিসাবে, এসব অভিযোগে তার কারাদÐের মেয়াদ দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৪৩০ বছর পর্যন্ত।
গত মার্চে ইমামওগলুর গ্রেপ্তারের পর তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত মানুষকে সেসময় আটক করা হয় এবং পুলিশের থরপাকড় অভিযান চলে। এরপর থেকে তিনি ইস্তাম্বুলের মারমারা কারাগারে আটক আছেন।
দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি ইমামওগলুর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, জাল সনদ ব্যবহারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বাতিলও করা হয়েছে। ফলে, আইন অনুযায়ী, তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ইমামওগলু ২০১৯ সালে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন একে পার্টির প্রার্থীকে প্রায় দশ লাখ ভোটে পরাজিত করেন।

