আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে রাজী পাকিস্তান ও আফগানিস্তান : তুরস্ক

তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আলোচনাÑ(ফাইল ছবি)
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি২৪ডটকম
৩১ অক্টোবর, ২০২৫
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে টানা পাঁচ দিনের আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির বহাল রাখতে রাজি হয়েছে বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার রাতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়ে যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবার বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকের আগ পর্যন্ত যাতে আর কোনো সংঘাত না হয় সে ব্যাপারে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকার সজাগ থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা।”
এরআগে গত বুধবার আল-জাজিরা জানিয়েছিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তাানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাত নিরসনে ইস্তাম্বুল আয়োজিত শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক সফল হয়নি। এই ব্যর্থতার জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করে। আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বড় ধরণের সংঘাতের আশংকা দেখা দেখা দিয়েছিল।
রয়টার্সের কাছে পাকিস্তান সূত্র জানিয়েছে, আফগান ভূখÐে অবস্থান করে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি), তাই আফগান সরকারকে টিটিপির নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। তবে আফগান সূত্র দাবি করেছে, টিটিপির ওপর তাদের কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই। এই মতবিরোধ ঘিরেই আলোচনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই আলোচনা ভেঙে গেছে।
অক্টোবরে কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় আফগানিস্তানে অবস্থানরত টিটিপি নেতাদের লক্ষ্যবস্ত করা হয়, তবে তাতে কাবুলের সাধারণ জনগণও হতাহত হয়, যার জবাবে তালেবানরা পাকিস্তানি সামরিক পোস্টে পাল্টা হামলা চালায়। ফলে সীমান্তজুড়ে সংঘাত ছড়িড়ে পরে। উভয়পক্ষে বহু হতাহত হয়।
আগামী ৬ নভেম্বর দুই পক্ষ পুণরায় বৈঠকে বসতে এবং যদ্ধবিরতি বহাল রাখতে সম্মত হওয়ার দুই ভ্রাতৃপ্রতীম মুসলিম প্রতিবেশি দেশের মধ্যে সংঘাতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যাপারে আশার সঞ্চার হয়েছে।
