জাতীয়সর্বশেষ

জাতীয়

হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্র দিল্লির

মোদি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি২৪ডটকম
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতায় নতুন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার ফলাও প্রচার। আওয়ামী লীগের এই প্রধানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যখন বিচার শেষে রায়ের জন্য ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে হঠাৎ করে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার প্রচারের মাধ্যমে দিল্লি নতুন খেলায় নেমেছে।
গত বুধবার রয়টার্স, এএফপি, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার জন্য তার ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেই ভোট বয়কট করবে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। তার দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠন হোক তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না, বরং ভারতেই অবস্থান করবেন।
পলাতক ও ফেরারি শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, পরবর্তী সরকারের অবশ্যই নির্বাচনি বৈধতা থাকতে হবে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক ভোটে অংশ নেবে না। একটি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাইলে লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতের আশ্রয়ে থাকা এই সাবেক স্বৈরাচার বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্তে¡ও তার আওয়ামী লীগ দেশের জন্য ভূমিকা পালনে ফিরে আসবে, সেটা সরকারে হোক আর বিরোধী দলে হোক এবং এজন্য তার পরিবারের নেতৃত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে এর আগে গত বছর এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, দল চাইলে তিনি নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন চাল ও ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। তারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন বানচালের পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে সামনে রেখে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে দিল্লি। ভারতের এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নানা গোষ্ঠী যুক্ত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরো বলেন, মামলার রায়ে হাসিনার সাজা হলে ভারত এক ধরনের চাপে পড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রায়ের আগেই হাসিনার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার করার উদ্যোগ নিল দিল্লি।
গত বছর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই নানাভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক অপচেষ্টা চালিয়েছে দিল্লি। কখনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ, কখনো সীমান্তে হত্যার মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি, আবার কখনো হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের অডিও রেকর্ড ফাঁস করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে দেশটি।
দিল্লিতে হাসিনার জন্য একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আগামীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাÐ পরিচালনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারতের ‘ডিপ স্টেট’ তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা এবং সরাসরি তত্ত¡াবধায়নে এই রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। কার্যালয়কে হাসিনার সচিবালয় হিসেবে উল্লেখ করছে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া দিল্লির যে সুরক্ষিত ভবনে হাসিনা অবস্থান করছেন সেই ভবনেই তার জন্য সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক যোগাযোগের সুবিধাসহ সব ব্যবস্থা আছে এ সচিবালয়ে।
হাসিনার পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয়সহ আওয়ামী লীগের শত শত নেতা, গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাÐে জড়িত শীর্ষ জেনারেল, পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, বেসামরিক আমলাসহ নানা অপরাধে জড়িতদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এসব অপরাধী কলকাতায় বসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত¡াবধায়নে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।
ভারতের নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল, অব্যাহত চাপের মুখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকার ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে এবং সহজেই হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে হারিয়ে যাওয়া দিল্লির আধিপত্যবাদী প্রভাব আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি।
ড. ইউনূস দিল্লি নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছেন। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছাত্রলীগ। নিষিদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও। সর্বোপরি গণহত্যার দায়ে হাসিনার বিচার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে আছে। আগামী মাসে রায় হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দালাইলামা মডেলে হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাÐ চালানোর সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে নানা নীল নকশা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে দিল্লি। সবশেষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনার সাক্ষাৎকারটি হল এ পরিকল্পনারই অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *