আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

বোরকা নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল পার্লামেন্ট

নিউজ ডেস্ক
এনভিটোয়েন্টিফোর ডটকম
১৮ অক্টোবর, ২০২৫

নতুন আইনে বলা হয়েছে, “এখন থেকে দেশের কোনো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন কোনো পোশাক বা বস্ত্রখÐ কোনো নারী-পুরুষ পরতে পারবেন না, যা মুখাবয়ব বা মুখমÐল ঢেকে রাখে। যদি কেউ এই আইন অমান্য করেন, তাহলে তাকে সর্বনি¤œ ২০০ ইউরো (২৮ হাজার ৪৭৬ টাকা) থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ইউরো (৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫২০ টাকা) জরিমানা প্রদান করতে হবে।”
পর্তুগালের পার্লামেন্টে কয়েক দিন আগে বিল আকারে প্রস্তাবটি এনেছিল দেশটির কট্টর ডানপন্থি চেগা পার্টি। কয়েক দিন ধরে প্রস্তাবটির পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক হয়। তর্ক-বিতর্কের সময় চেগা পার্টির এমপিরা দাবি করেছেন, পর্তুগালে অধিকাংশ মেয়ে এবং নারী স্বেচ্ছায় বোরকা পরেন না। পারিবারিক ও ধর্মীয় চাপের কারণে তারা বোরকা পরতে বাধ্য হন। এটা একধরনের পীড়ন বা জুলুমবাজি।
তারা আরও দাবি করেন, পর্তুগালের সামাজিক মূল্যবোধ ও রীতিনীতিতে মুখমÐল উন্মুক্ত রাখাকে সম্মান করা হয়। যেসব অভিবাসী ইতোমধ্যে দেশের নাগরিক হয়েছেন এবং যারা নাগরিকত্বের অপেক্ষায় আছেন, তাদের অবশ্যই পর্তুগালের সামাজিক রীতিনিতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
অন্যদিকে বিরোধীরা বলেন, নতুন এই বিলটি বৈষম্যমূলক। পর্তুগালের সামাজিক মূল্যবোধে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি স্বীকৃত এবং নতুন বিলে ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানা হয়েছে। তারা আরও বলেন, আইনটি পাস হলে দেশে বসবাসরত একটি নির্দিষ্ট স¤প্রদায়ের সংখ্যালঘু স¤প্রদায় (মুসলিম) চাপ অনুভব করবেন।
কয়েক দিন তর্ক-বিতর্ক চলার পর শুক্রবার পার্লামেন্টে ভোটের জন্য বিলটি তোলার পর সংখ্যাগরিষ্ট এমপি সেটির পক্ষে ভোট দেন। ফলে শুক্রবার থেকেই আইনে পরিণত হয়েছে সেই বিল।
পর্তুগাল অবশ্য ইউরোপের প্রথম দেশ নয়, যারা আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করল। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে প্রথম আইন জারি করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে বোরকা নিষিদ্ধ করে বেলজিয়াম। ২০১০ সালে এ আইন পাস হয় ব্রাসেলসের পার্লামেন্টে। তারপর ২০১৬ সালে ফ্রান্স, ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৬ সালে বুলগেরিয়া, ২০১৭ সালে অস্ট্রিয়া এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডে এই আইন পাস ও কার্যকর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *