এমপি হান্নান মাসউদের জন্য ফেরি ছাড়তে ২ ঘণ্টা বিলম্ব
মফস্বল ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
নোয়াখালীর হাতিয়ায় নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট রুটে একটি ফেরি প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কারণে। এতে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
ঘটনাটি ঘটে রোববার রাতে নলচিরা ঘাটে নোঙর করা ফেরি ‘মহানন্দা’-তে। অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের উপস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ফেরিটি ছেড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরিটি বিকেল সোয়া ৪টায় ছেড়ে নলচিরা ঘাটে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পৌঁছায়। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে লোড-আনলোড শেষে প্রায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেরিটি চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ছাড়ে রাত ৯টার দিকে। এ সময় কাউন্টারে বুকিং নেওয়া মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, ফেরি ছাড়তে দেরির কারণ জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়—“এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ফেরি ছাড়া হবে।” এতে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েন বলে তারা জানান।
তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে ফেরি না ছাড়ায় চেয়ারম্যান ঘাট হয়ে সোনাপুর ও মাইজদী পৌঁছাতে দেরি হবে এবং অনেকেই সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না।
এক যাত্রী বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধির জন্য যদি শত শত মানুষকে কষ্ট পেতে হয়, তাহলে এটি দুঃখজনক।”
ফেরি ‘মহানন্দা’র মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, “আমরা ৫টা ৪০ মিনিটে ঘাটে পৌঁছি। আনলোড ও লোডে স্বাভাবিকভাবে ৪০ মিনিট সময় লাগে। আমাদের জানানো হয়েছিল এমপি সাহেব আসবেন, তাই কিছুটা দেরি হবে। এজন্য প্রথমে গাড়ি উঠাতে দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও জানান, যাত্রীদের উত্তেজনার পর রাত ৮টার পর ফেরিটি চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা দেরি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

