তাজমহলে মার্কো রুবিওর ছবি নিয়ে ইরানের কটাক্ষ
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
২8 মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার চার দিনের ভারত সফর শেষ করে ফিরে গেলেও এ নিয়ে আলোচনা থামছে না। ভারত সফরের একাধিক মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো আলোচনার কেন্দ্রে হয়ে রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
এই তালিকায় যেমন তাজমহলের সামনে তার ছবিকে কেন্দ্র করে ইরানের কর্মকর্তাদের ‘কটাক্ষ’ রয়েছে, তেমনি রয়েছে জয়পুর থেকে রুবিওর বিদায়ের সময় ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি।
আগ্রার তাজমহলের সামনে রুবিও ও তার স্ত্রী ছবি তুলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের তীব্র সংঘাতের আবহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ছবি ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি হায়দ্রাবাদে ইরানি কনস্যুলেট। সামাজিক মাধ্যমে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে লেখা হয়-‘রুবিও যদি এর ইতিহাস বা স্থাপত্য সম্পর্কে জানতেন, তাহলে তিনি এখানে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতেন না।’
অন্যদিকে মার্কো রুবিও যখন রাজস্থানের জয়পুর থেকে রওনা দেন, তখন তাকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে কোনো বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বা ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন না, যা অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভ্যর্থনা বা বিদায়সংক্রান্ত প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী মার্কো রুবিওর জয়পুর সফর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না।
তার জয়পুর ও আগ্রা সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন। প্রটোকল অনুযায়ী এই জাতীয় সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না। তবে ঘটনাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে।তবে এহেন আচরণের সমালোচনাও করেছেন অনেকে। সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুশীল সিং শেভরন লিখেছেন, ‘মার্কো রুবিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে বিদায় জানাতে উর্দিধারীদের মোতায়েন করার এই অমার্জিত আচরণ ভারতীয় বাহিনীর ভাবমূর্তির পক্ষে ভালো নয়। আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন। কিন্তু তাই বলে বিশ্বের সামনে এইভাবে উপস্থাপনা করা উচিত নয়।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফরের সময় আগ্রার তাজমহল পরিদর্শন করেন। তাজমহলের সামনে স্ত্রীর সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন তিনি। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন রুবিও। হায়দ্রাবাদে ইরানি কনস্যুলেটের তরফে এই ছবি নিয়ে কটাক্ষ করা হয়।
ইরানের কনস্যুলেট সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করা বিবৃতির মাধ্যমে রুবিওকে ‘স্মরণ’ করিয়ে দেয় তাজমহল ইরানি বংশোদ্ভূত মমতাজের প্রতি মুঘল সম্রাটের ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ এবং এর নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন পারস্যের দক্ষ স্থপতিরা।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের সমালোচনা করা হয়।
ইরানের কনস্যুলেটের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সভ্যতা ‘নিশ্চিহ্ন’ করতে চাইছে। আর অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন দেশে গিয়ে সেই সভ্যতার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করছেন। এই ‘দ্বৈত অবস্থানের’ কড়া সমালোচনা করে হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট।
এই মন্তব্য বিষয়টাকে শুধু ইতিহাসের প্রেক্ষাপটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি তারা, আন্তর্জাতিক রাজনীতির রঙেও রাঙিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মাঝে দুই পক্ষই প্রায়শই একে অন্যের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়, সমালোচনা করে।
ইরানি কনস্যুলেটের ওই পাল্টা পোস্ট ক্রমে ভাইরাল হয়ে যায়। একে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে। একদিকে যেমন কেউ কেউ কিছু মার্কো রুবিওকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ঐতিহাসিক পটভূমি না বুঝে যেকোনো জায়গায় ছবি তোলা ঠিক নয়, কেউ কেউ আবার বিষয়টাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করে একে ‘কূটনৈতিক প্রতীক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
‘পারস্যের স্থপতিরা একজন ইরানি রানীর জন্য এই ভবন নির্মাণ করেছিলেন এবং এটা এমন এক সভ্যতার প্রতীক যাকে তাদের (মার্কিন) প্রশাসন বিপন্ন করে তুলেছে এবং (মার্কিন প্রশাসন এর প্রতি) সম্মানও দেখায় না।’

