সর্বশেষসারাদেশ

রহস্যজনকভাবে শিশুসন্তানসহ গৃহবধূ নিখোঁজ, ১১ দিনেও খোঁজ মিলেনি

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

2১ মে, ২০২৬

রাঙ্গামাটির লংগদুতে গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনারগাঁও ৩নং ওয়ার্ডের আজিজুলের স্ত্রী হাফসা (২২) ও তিন বছরের ছেলে সন্তান ১১ দিন আগে নিখোঁজ হন। আজও তাদের কোনো খোঁজ মিলেনি। এ বিষয়ে হারানোর দুই দিন পর লংগদু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন স্বামী আজিজুল।  

আজিজুলের বাড়ি গিয়ে আজিজুল ও তার পরিবারের লোকজন জানান, গত ৮ মে শুক্রবার বিকালে গৃহবধূ হাফসা ও তার ছেলে সন্তান বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি তাদের।

আজিজুল বলেন, ঐদিন বিকালে আমার ভাবিকে নিয়ে আমি চৌমুহনী বাজারে ডাক্তারের কাছে যাই। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মা ফোন করে বলে আমার স্ত্রী বাসায় নেই। পরে আমরা সবাই খোঁজাখুঁজি করি কোথাও পাই না। পরের দিনও খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরের দিন আমরা থানায় জিডি করি।

 তবে আজিজুল বিষয়টি হাফসার বাপের বাড়ির কাউকে জানাননি।  পরের দিন থানা পুলিশের মাধ্যমে মেয়ে পরিবার জানতে পারে তাদের মেয়ে তিন বছরের সন্তান সহ নিখোঁজ রয়েছেন। কেন জানায়নি এমন প্রশ্নে আজিজুল বলে, আমার সাথে তাদের পরিবারের সাথে মামলা ও দ্বন্দ্ব চলমান, তাই জানানো হয়নি। তিনি জানান, আমি সম্ভব্য সকল জায়গায় গিয়েছি এখনো যাচ্ছি কোথাও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। পুলিশ তদন্তে আসছিল তারাও বিষয়টি দেখতেছে।

মেয়েটি পালানোর আগের দিন পায়ে ব্যাথা অবস্থায় হাঁটাচলা করছিল এমন প্রশ্নে আজিজুল জানায়, ঘরের আড়া থেকে বাটাম নামাতে গিয়ে বাটাম তার পায়ে পড়ে যায়, তখন সে ব্যথা পায়। আপনার স্ত্রীকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন প্রশ্নে আজিজুল স্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আমার স্ত্রী একটা মামলা করে। সেই মামলা কিছু দিন আগে আপস হওয়ার পর থেকে আর কোনো জামেলা আমাদের মাঝে ছিল না। এদিকে আমার স্ত্রীর ভাই আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা করেছে। আমরাও একটা মামলা করেছি তাদের বিরুদ্ধে। এগুলে মিমাংসা হওয়ার জন্য আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম। এর মাঝেই আমার স্ত্রী বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে মেয়ের বড় ভাই আক্কাস আলি জানান, আমার বোনকে বিয়ের পর থেকেই তারা নির্যাতন করে আসছে। অনেক বিচার-শালিস করেও রেহাই পায়নি আমার বোন। বোনের ওপর নির্যাতন দেখে আমি বাদী হয়ে একটা জিডি করি থানায়, সেই জিডি আদালতে মামলা হয়। আর এরপর তারাও আমাদের নামে মামলা করে এসব উঠানোর জন্য বারবার আমার বোনকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

গত শুক্রবার না কখন আমার বোন হারাইছে আমরা জানি না। আমাদের থানা থেকে ১১ তারিখ ফোন করে জানিয়েছে যে, আপনার বোনকে তো পাওয়া যাচ্ছে না সন্তানসহ। তখন আমরা জানতে পারি যে আমার বোন হারিয়ে গেছে। এরপর থেকে দিশেহারা হয়ে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতেছি কোথাও পাইনি। এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা জানিনা, সে কোথায় আছে, কীভাবে আছে। হারানোর পর বোনের স্বামী নিজেই আবার থানায় জিডি করেছিল। তাদের পরিবার থেকে এখনো পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা ধারণা করছি, তারাই আমার বোনকে লুকিয়ে অথবা গুম করে রেখেছে।

কারণ, আমি যে মামলা করেছি এই মামলা উঠানোর জন্য বোন জামাই আমার বোনকে বারবার চাপ দিচ্ছিল।  আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার বোন ও তার সন্তানকে পাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।  

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, স্বামীর পক্ষ হতে থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে আমাদের পুলিশের একটি টিম তদন্ত চলমান রেখেছে। এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।মা ও শিশুকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *