আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

মার্কিন কংগ্রেসে রাজা চার্লসের ভাষণ, সদুপদেশ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২৯ এপ্রিল, ২০২৬

বিদ্রোহের এই নতুন যুগে, যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ: আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার দৃষ্টান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন একজন রাজা। সূত্র: সিএনএন

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শব্দচয়ন করেন—যেমনটা করতেন তার মা, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রাজকীয় অর্থ প্রায়শই অনুমান করে নিতে হয়।

কিন্তু রাজকীয় মানদণ্ডে, মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া তার ভাষণটি ছিল লক্ষণীয়ভাবে সরাসরি।

চার্লস ট্রাম্প প্রশাসনকে তিরস্কার বা সমালোচনা কোনটাই করেননি। কিন্তু রাজা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথের প্রতি প্রচ্ছন্নভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

চার্লস ইউক্রেনের আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিকে’ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে—যা ছিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচ্ছন্ন আহ্বান।

রাজা জোর দিয়ে বলেন, চিরস্থায়ী সম্পর্ক অটুট রেখেই মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তার এই মন্তব্য ছিল বিশেষ সম্পর্কের বিষয়ে একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত, যে সম্পর্ক ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের যোগদানে অস্বীকৃতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে চার্লস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কথার ওজন ও তাৎপর্য রয়েছে, যেমনটা স্বাধীনতার পর থেকেই আছে। এই মহান জাতির কর্মকাণ্ড আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যেকার আত্মিক বন্ধন মূল্যবান ও চিরন্তন।

চার্লসের মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তার কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। ট্রাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত নেতাদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখতে গর্ববোধ করেন।

চার্লস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি অনন্য উপহার দিয়েছেন, রয়্যাল নেভির একটি সাবমেরিনের ঘণ্টা। এই সাবমেরিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে।

চার্লস বলেন, ‘যদি কখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন হয়, শুধু একটি ফোন করবেন!’

চার্লস ম্যাগনা কার্টা; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিল অফ রাইটস; ‘আইনের শাসন, স্থিতিশীল ও সহজলভ্য নিয়মের নিশ্চয়তা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ও নিরপেক্ষ বিচার প্রদানকারী স্বাধীন বিচার বিভাগের’ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বর্তমান হোয়াইট হাউসের সমালোচনা করার মতো অবিবেচক ছিলেন না। কিন্তু তিনি নিজের মূল্যবোধ প্রকাশ করতেও পিছপা হননি।

তিনি মতবিরোধকে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ত্রুটি হিসেবে নয়, বরং এমন একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেন যা সম্পর্ককে আরো গভীর করে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *