রাজনীতিসর্বশেষ

রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদানে ঝিনাইদহে দলে ক্ষোভ

রাশেদ খান ‍ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদেন। ছবি:সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২7 ডিসেম্বর, ২০২৫

রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে নানা সমীকরণ শুরু হয়েছে। বিএনপি জোটের স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, রাজনৈতিক আদর্শ নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদানকে ঘিরে ওই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের জেলা নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের দাবি, রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ভোটের মাঠে সুবিধা আদায় করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোট শেষ হলে তিনি আবার নিজ দল গণঅধিকার পরিষদেই ফিরে আসবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া ফুল গ্রহণ করে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ খান। সেসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের চারটি ইউনিয়ন) ধানের শীষ প্রতীকে তিনি নির্বাচন করবেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগদান শুধু ব্যক্তি রাশেদ খানের সিদ্ধান্তে নয়, বরং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের চারটি ইউনিয়ন) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে ভোটের রাজনীতিতে যেমন উত্তেজনা বাড়ছে, তেমনি দলীয় রাজনীতিতেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে, রাশেদ খানের এই রাজনৈতিক ‘দলবদল’ ঝিনাইদহ-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। এই খেলায় শেষ হাসি কে হাসবেন সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

গত বুধবার থেকেই ওই আসনের রাশেদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে স্থানীয় বিএনপির কোনো একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ করতে থাকেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এর জেরে শুক্রবারও ওই আসনের দুইজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা কাফনের কাপড় পরে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য একজোট হয়ে বিক্ষোভ ও গণ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এমন অবস্থায় শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের দলীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিবের হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ খান। 

কালীগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাধারণ ভোটার শামীম আহমেদ বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ধরে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাননি। এবার আবারো ধানের শীষ প্রতীক দেখেই ভোট দেবেন। কিন্তু তার মনোনীত প্রার্থীকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি হতাশ।

কবীর হোসেন বলেন, অনেক ইচ্ছা ছিল, কালীগঞ্জ বিএনপি থেকে একজন মনোনয়ন পাবেন তাকেই ভোট দেব। অথচ বিএনপি থেকে কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে তিনি আশাবাদী অন্যান্য জায়গার মতো ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রার্থী পূর্ণ বিবেচনা করবে দলের হাই কমান্ড।

গণঅধিকার পরিষদের ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি আবার যথা সময়ে অবশ্যই গণঅধিকারে ফিরবেন। নির্বাচনী কৌশল হওয়ার কারণে তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেও আমরা তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করব।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, গণঅধিকার থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবেন না রাশেদ খান। এ জন্য আদর্শ বিবর্জিত হয়ে স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব, যদি খুলনা বিভাগের নেতারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমাদের মাঝখান থেকে কাউকে মনোনয়ন না দেয়, তাহলে আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করব। কারণ আমরা বিএনপিকে বাঁচাতে চাই। কালীগঞ্জের বিএনপিকে কারো কাছে বর্গা দিতে চাই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *