আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তিতে কোণঠাসা নেতানিয়াহু

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

৩০ মে, ২০২৬

ইসরাইলি ও আমেরিকান যুদ্ধবিমানগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন একযোগে ইরানে হামলা চালায়, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অপরের ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ উদযাপন করেন। নেতানিয়াহু বলেন, দুই দেশের মধ্যে জোট এর আগে কখনো এতটা ঘনিষ্ঠ ছিল না।

তিন মাস পর সেই যৌথ সামরিক অভিযান এখন আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শেষ হতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। নেতানিয়াহু এখন নিজেকে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় দেখতে পাচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতেও ট্রাম্পের প্রকাশ্যে সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ইসরাইলি সূত্রগুলো সিএনএনকে বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ফলাফলের ওপর ইসরাইলের প্রভাব নেই বললেই চলে।

এপ্রিলে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে, নেতানিয়াহু বারবার ট্রাম্পকে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য চাপ দিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে ধারাবাহিক চাপ এখনও ইরানি শাসনের পতনের কারণ হতে পারে। কিন্তু হোয়াইট হাউস বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সূত্রমতে, নেতানিয়াহু উদ্বিগ্ন যে আসন্ন চুক্তিটি ইসরাইলের মূল উদ্বেগগুলো, যেমন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে অনেকাংশেই অমীমাংসিত রেখে দেবে এবং একই সাথে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমে আসবে।

একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘প্রকৃত উদ্বেগ রয়েছে যে ট্রাম্প একটি খারাপ অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতেই সন্তুষ্ট থাকবেন। যদি এটি এমন একটি চুক্তি হয়, যেখানে ইউরেনিয়াম সত্যিই অপসারণ করা হবে, তবে ভালো। কিন্তু যদি এটি কেবল অভিপ্রায়ের একটি বিবৃতি হয়, তবে ইরানিরা আমেরিকানদের সাথে চালাকি করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম অপসারণ নাও করতে পারে।’

ইরান বারবার বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়েযে আলোচনা চলছে, তাদের অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মজুদের ভাগ্য সেই চুক্তির অংশ নয়। ট্রাম্প বলেছেন, এই উপাদান শেষ পর্যন্ত ইরান থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা উচিত, কিন্তু সম্প্রতি তিনি এই বিষয়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ করে দিতে পারে।

এক কর্মকর্তা বলেছেন, নেতানিয়াহু ইরান সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য চাপ দিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হলে এবং তা বিশেষ করে যদি তা কোনো খারাপ চুক্তির অংশ হিসেবে করা হয় – তবে তা খুবই খারাপ হবে এবং ইরান সরকারকে তা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

আরেকটি ইসরাইলি সূত্র আরও সরাসরিভাবে সিএনএনকে বলেছে, ‘ট্রাম্প যখন আমাদের বলির পাঁঠা বানান, তখন এমনটাই মনে হয়।’

আরেকটি বড় বাধা হলো লেবানন। জানা গেছে, ইরান এই চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেতানিয়াহু লেবাননে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে তাদের অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সীমাবদ্ধতা নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে, যা তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নিজ জোটের সদস্যদের কাছ থেকেই আসছে। নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী রাজনৈতিক মিত্র, মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ- উভয়েই আরও আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

বেন গভির নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের মুখোমুখি হতে এবং এটা স্পষ্ট করে দিতে অনুরোধ করেছেন যে, ইসরাইল রাষ্ট্র এটা সহ্য করতে পারে না।

এই আসন্ন চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও তাদের তুলনামূলকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর চালানো তীব্র প্রচারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। বিবির সেই প্রচেষ্টা কংগ্রেসে দেওয়া এক বিতর্কিত ভাষণে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি একটি ঐতিহাসিক ভুল। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সেভাবে বলতে পারছেন না নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক পুঁজির একটি বড় অংশ ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর বিনিয়োগ করে নির্মাণ করেছেন। প্রকাশ্যে তাকে চ্যালেঞ্জ করা আরও বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি বহন করতে পারে, বিশেষ করে ইসরাইলে যখন নির্বাচন আসন্ন।

এর পরিবর্তে, নেতানিয়াহু এই সংঘাতের অবসানের দিকে ট্রাম্পকে পরিচালিত করার জন্য মার্কিন আলোচক দল তথা জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফকে দোষারোপ করছেন। নেতানিয়াহুপন্থী গণমাধ্যমগুলো এই আলোচনা দলের সমালোচনা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে এই সমালোচনা থেকে দূরে রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *