আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা বেড়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

০৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর উচিত ভেনেজুয়েলায় কী হচ্ছে, সেদিকে গভীরভাবে নজর রাখা। সূত্র: আল জাজিরা

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এনআইএসি)-এর সভাপতি জামাল আবদি বলেন, ‘নতুন ধরনের এই আইনবহির্ভূত আচরণ বিশ্বকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, মাদুরোর অপহরণের ঘটনায় ইরান মনে করতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি অর্থহীন এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোরতাজাভিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সর্বোচ্চবাদী নীতি কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইরান–ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ও প্রতিক্রিয়া

মাদুরো ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। দুদেশই দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মাদুরোকে আটক করার পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করেছে এবং জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব।

ট্রাম্পের হুমকি

গত সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালাবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালালে ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ভেনেজুয়েলার মতো ‘সরকারি নেতৃত্ব অপসারণ’ মডেল ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগের চেষ্টা হতে পারে। তবে আবদি বলেন, ইরান এ ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় অস্থিরতা

মাদুরো অপহরণের পরও ভেনেজুয়েলায় সরকার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে নিন্দা জানিয়েছেন। 

পাল্টা হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, যদি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে অস্বীকার করেন, তবে ‘তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, যা ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *