জাতীয়সর্বশেষ

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি২৪ডটকম

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বছর ঘুরে আবার এলো ভাষা শহীদের মাস ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশীদের জীবনে মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে মাসটির পরিচিতি ভাষার মাস হিসেবে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জীবন উৎসর্গ করা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও নাম না জানা আরো অনেকের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। ভাষা আন্দোলনের এ মাসে সব ভাষা শহীদের স্মৃতিকে বিশেষভাবে স্মরণ করে পুরো বাংলাদেশ ।

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসকে ঘিরে প্রতিবছর এ মাসের শুরু থেকেই নানা কর্মসূচির আয়োজন হয়ে থাকে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করা হয়। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের এমন সিদ্ধান্তে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। বাংলা ভাষার সমান মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে পড়ে। দেশের প্রতিটি শহর-বন্দরে চলতে থাকে মিটিং-মিছিল। বিপরীতে এই আন্দোলন দমনে নিপীড়নের পথ বেছে নেয় তৎকালীন সরকার। ঢাকা শহরে নিষিদ্ধ করা হয় মিছিল-সমাবেশ। তবে, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় নামে প্রতিবাদী জনতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে পাকিস্তান সরকারের আরোপিত ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্কুল-কলেজের হাজার হাজার ছাত্র সমবেত হয়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। এতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, ছাত্রছাত্রীরা ইট-পাটকেল ছুড়ে তার জবাব দেয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের আটকাতে ব্যর্থ হয়ে মিছিলের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। গুলিতে রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, আবুল বরকত, আবদুস সালামসহ আরো অনেকে প্রাণ হারায়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।

১৯৫২ সালের পর থেকে ভাষার জন্য আত্মত্যাগের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে পালিত হয়। এর ফলে বাংলাদেশের গণ্ডির বাইরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে ভাষা আন্দোলন।

ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা শহরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি চলবে পুরো মাস ধরে।

এদিকে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে এই বইমেলা শুরু হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি। নতুন নির্বাচিত সরকারপ্রধান এবারের বইমেলার উদ্বোধন করবেন এমন প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানায় বইমেলার আয়োজন সংস্থা বাংলা একাডেমি।

এছাড়া প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলা একাডেমিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, দিবসটি সুষ্ঠুভাবে উদযাপন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আজম উদ্দীন তালুকদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় দিবসটির গুরুত্ব বেড়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা দেশে উদযাপন করা হবে।

একুশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ভাষা পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৮টায় অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পদযাত্রা শেষ হবে।

অমর একুশে প্রতীকী বইমেলা

আজ রোববার প্রতীকী বইমেলা বসছে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চ চত্বরে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বইমেলা চলবে। একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ এই মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় অর্ধশত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় অমর একুশের গান, আবৃত্তি, নাটক, বক্তৃতা চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *