সর্বশেষসারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর রাস্তায় বিছানো ইট তুলে নিলেন ঠিকাদার

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

1১ জুন, ২০২৬

বগুড়ার গাবতলীর পৈতৃক ভূমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি কাঁচা রাস্তায় ভাড়া নেওয়া ইট-বালু ফেলে একটি রাস্তা নির্মাণ করেছিল। সফর শেষে ঠিকাদার রাস্তার সেই ভাড়া নেওয়া ইটগুলো তুলে নিয়েছেন। এতে জেলাজুড়ে নানান আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়া বাড়ি পর্যন্ত ৫শ মিটার সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

কার্যাদেশ অনুযায়ী এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল; কিন্তু সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গত ২০ এপ্রিল বগুড়া সফরে আসেন। তিনি গাবতলীর বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খনন কাজের উদ্বোধন ও তার পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এলজিইডি ৫শ মিটার ওই কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে রাস্তায় ইট বিছানোর কাজ শেষ করা হয়। ঠিকাদার ভাটা থেকে ইটগুলো ভাড়া নেন। এতে আনুষঙ্গিক কাজসহ ব্যয় দেখানো হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সপ্তাহখানেক পর ঠিকাদার রাস্তায় বিছানো ইটগুলো তুলে নেন। এতে বর্ষার মধ্যে ওই সড়কে চলাচল করতে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, মন্তেজার রহমান, আজাদুর রহমানসহ কয়েকজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। এখন সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়মনীতি মেনেই সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। ওই সড়ক পাকা করতে আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত।

ঠিকাদার ও মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে এলজিইডি থেকে ওই কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ভাটা থেকে ইট নিয়ে সড়কে বিছিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে ভাটায় নিয়ে এসেছেন। এলজিইডি থেকে শুধু পরিবহণ ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।

গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রোকন তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে ভাড়ার ইট এনে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। ইটগুলো ভাড়ায় আনা হয়েছিল, তাই পরে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে কোনো অন্যায় বা অনিয়ম হয়নি।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জরুরি বরাদ্দের আওতায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। পরে মূল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে সেই ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবতা তা নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সড়কের পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সাইট বুঝে নিতে বিলম্ব হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *