আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

পাকিস্তানের করাচীতে শপিংমলে আগুন, অন্তত ৫জন নিহত

নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

পাকিস্তানের করাচির এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে আগুন লাগার পর তা টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোববার সকালে প্রচণ্ড তাপের কারণে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। রেসকিউ কর্মকর্তারা জানান, আগুনের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দমকলকর্মীরা এখনো ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চিফ ফায়ার অফিসার জানান, গুল প্লাজাটি চারদিক থেকে ঘেরা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভানোর কাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করাচি সাউথ জেলার ডেপুটি কমিশনার জাভেদ নবী খোসো বলেন, ভবনের প্রথম তলার পেছনের অংশে আবার আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রথম ও মেজানাইন তলায় এখনো মানুষ আটকে থাকতে পারেন, তবে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, ভবনে কোনো জরুরি নির্গমনপথ না থাকায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভবনের নকশা ও অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার নির্দেশ থাকলেও ভবনে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

সিন্ধু ইমার্জেন্সি সার্ভিস রেসকিউ ১১২২–এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডা. আবিদ জালালউদ্দিন শেখ বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে তিন দিক থেকে ২০টি ফায়ার টেন্ডার ও চারটি স্নরকেল কাজ করছে। তবে ভবনের ভেতরে মজুত বিপুল পরিমাণ দাহ্যসামগ্রী আগুন নেভানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফায়ার ব্রিগেড কর্মকর্তারা জানান, ভবনের ভেতরে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের পেছনের অংশ ধসে পড়ায় উদ্ধারকর্মী ও আটকে পড়াদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া ভবনের ভেতরে থাকা এয়ার কন্ডিশনিংয়ের দোকানগুলো আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে। প্রচণ্ড তাপে একটি স্তম্ভ ধসে পড়ায় ভবনের আরও অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে করাচি সাউথের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) আসাদ রাজা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *