নরসিংদীতে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে টেনে হিঁচড়ে বের করলেন বিএনপি নেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার ওপর হামলা করে টেনে হিঁচড়ে বের করলেন বিএনপি নেতারা। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকালে কলেজ অফিসে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কলেজের অধ্যক্ষকে কিছু লোক লাঞ্ছিত করছে।
তার প্যান্টের বেল্ট ধরে টানাহেঁচড়া করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের অনেককে অসহায়ভাবে এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে|
সচেতন মহল এই বর্বরোচিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন সকাল ৯টার দিকে কলেজে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় এলাকার বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন এর নেতৃত্বে একটি চক্র অতর্কিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এক পর্যায় অধ্যক্ষের উপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে| অধ্যক্ষকে টেনে হিঁচড়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে আনে। এলোপাতারি কিলঘুষি মেরে কয়েকজন হামলা চালায়। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে|
জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয় আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, বিএনপি কর্মী জলিল এবং জুয়েলের নেতৃত্বে বিএনপি কতিপয় ব্যক্তি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে তাকে বের করে দিতে চেষ্টা করে।
এই ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে, যা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।সর্বশেষ আদালত অধ্যক্ষের পক্ষে রায় দিয়ে তাকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা আদালতের এই রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রাখে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, “তারা আমাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে বিএনপি নেতা নাজমুল হক বাদলের অফিসে নিয়ে যেতে চেয়েছিল ।আমি বারবার বলেছি, কোনো প্রয়োজন থাকলে আপনারা আমার অফিসেআসেন, কথা বলেন|
তিনি আরও বলেন, তারা হঠাৎ করে আমাকে মারধর করে নাজেহাল করে। একজন শিক্ষক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে এটা কখনো কল্পনাও করিনি।
এর আগেও তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।
এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষানুরাগীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হওয়ার পথে।
তারা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এলাকার আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অফিস কক্ষে ঢুকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ওনারা ফোন রিসিভ করেননি।

