রাজনীতিসর্বশেষ

জামায়াতের মনোনয়ন পেলেন ড. ফয়জুল হক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

২৬ নভেম্বর, ২০২৫

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন আলোচিত রাজনীতিবিদ ড. ফয়জুল হক। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ের একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার মনোনয়ন ঘোষণা করেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট খান হাফিজুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবিএম আমিনুল ইসলাম, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আবদুল হাই, সদর উপজেলা আমির মাওলানা মনিরুল ইসলাম তালুকদারসহ আরও অনেকে।

মনোনয়ন ঘোষণা করতে গিয়ে জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেন, ড. ফয়জুল হক একজন পরিশীলিত, নীতিবান ও সাহসী ব্যক্তি। স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা দেওয়ার সময়ও আমরা তাকে সমর্থন জানিয়েছিলাম। পরে দলীয় মূল্যায়নে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে তিনি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য। তাই তাকে দলীয়ভাবে পূর্ণ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি তার নেতৃত্বে এ আসনে ন্যায়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর ড. ফয়জুল হক বলেন, দাঁড়িপাল্লার মনোনয়ন পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক সরকারের ভিত্তি গড়ে উঠবে সেই যাত্রার অংশ হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।

তার নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে ড. ফয়জুল হক বলেন, ঝালকাঠি-১ আসনকে উন্নয়ন, সুশাসন ও সত্য-ন্যায়ের রাজনীতির মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি ঘোষণা দেন- দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত প্রশাসন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, রাজাপুর-কাঠালিয়ার নদীভাঙন রোধ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, রোগী বহনের জন্য জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, কৃষকদের সরাসরি বাজারসংযোগ এবং এলাকার স্কুল-কলেজে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা তার প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়, আর আমি সেই পরিবর্তনের বার্তাবাহক হতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ঝালকাঠি-১ আসনের মানুষ সত্যের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত। সব দলমতের মানুষ সিদ্ধান্ত নিক, এবারের ভোট দাঁড়িপাল্লায় দিক।

ড. ফয়জুল হক জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর তিনি আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হবে। পাশাপাশি চরমোনাই, ছারছিনা, নেছারাবাদসহ দেশের বিভিন্ন পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এর আগে গত ৪ আগস্ট ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির মালয়েশিয়া শাখার সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থান ইসলামপন্থিদের প্রতি নেতিবাচক হওয়ায় তিনি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তাই দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার পর তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ড. ফয়জুল হক ওলিয়ে কামেল হযরত কায়েদ সাহেব হুজুরের (রহ.) নাতি। তিনি ১৯৮৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পশ্চিম চাড়াখালী গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ ও এমএ সম্পন্নের পর মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৯ সালে পিএইচডি এবং ২০২৩ সালে পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন।

তিনি বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুজ্জাম্মিলুল হক রাজাপুরী হুজুরের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বড় ভাই অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ছাইফুল হক, মেজ ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ শহীদুল হক এবং সেজ ভাই আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক।

গত ১৬ বছর ধরে অনলাইন টকশো, লেখালেখি ও মাঠপর্যায়ে অন্যায়-জুলুম-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন ড. ফয়জুল হক। প্রবাসে থেকেও জুলাই বিপ্লবের সময় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তিনি আলোচনায় আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *